লামা সরই ইউনিয়নে টানা ভারি বর্ষণে ভেঙ্গেছে সড়ক ও সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
উপজেলা প্রতিনিধি, মো আলী হোসেন
বান্দরবানের লামা উপজেলায় ভারি বর্ষণের ফলে পাহাড়ি ঢলের কারনে পাহাড় ধসে সরই ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।এছাড়া গ্রামীণ সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মৎস্য প্রকল্প ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে কেয়াজুপাড়া বাজারপাড়া থেকে পুলাং যাওয়ার একমাত্র সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়েছে। ইটের তৈরি সড়কে বড় বড় ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এদিকে কিল্লা-বটতলীপাড়া হয়ে আন্ধারী এলাকায় যাওয়ার সড়কের ডলু খালের ওপর নির্মিত সেতুটি পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ধসে গেছে। ফলে কিল্লাছড়া, বটতলী, ধুমছাপাড়া, আন্ধারীপাড়াসহ অন্তত ছয়টি গ্রামের সঙ্গে ইউনিয়ন সদরের সড়কযোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ২০১২ সালে নির্মিত সেতুটি ছিল ওই এলাকার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ।
প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মারকাযুল উলূম আল-ইসলামিয়া তাহফিযুল কুরআনুল কারীম মাদরাসা ও সংলগ্ন মসজিদ। পানির স্রোতে মাদরাসার নিচের মাটি ধসে যাওয়ায় শ্রেণিকক্ষ ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার সবজি ও অন্যান্য ফসল তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কম্পোনিয়া পাড়া, কালাইয়া পাড়া ও টংগঝিরি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১২টি বসতঘর পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডলুছড়ি বাজারপাড়ার বাসিন্দা মো. ইকবাল ও হাছনাপাড়ার জয়নাল আবেদীন জানান, পাহাড়ি ঢলে মাছের ঘেরের বাঁধ ভেঙে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আরো অন্তত আটটি মৎস্য খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টি কমে যাওয়ার ১০-১২ দিন পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে প্রতিদিনই দুর্ভোগ বাড়ছে।
সরই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
জেডএম