কুমিল্লায় ঐক্য পরিষদের ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই
—প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বক্তারা
তাপস চন্দ্র সরকার।। “ধর্ম যার যার-রাষ্ট্র সবার” এ শ্লোগান সামনে রেখে কুমিল্লায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।
এ উপলক্ষে ২০ মে বুধবার বিকেলবেলা কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় লাকসাম রোডস্থ মাধুরি-ননীকুঞ্জ ভবনের পঞ্চম তলায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা ও মহানগর শাখার আয়োজনে এ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়।
ওই সভায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায় এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- জেলা ঐক্য পরিষদ সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য হারাধন শীল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস বকসী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রতন চন্দ্র দাস ও উত্তম আচার্য্য, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট দীলিপ চন্দ, আইসিটি সম্পাদক এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মধুসূদন বিশ্বাস, সদস্য এডভোকেট প্রহ্লাদ চন্দ্র পাল, অধ্যাপক শ্রীধর বণিক ও গৌতম দাস এবং মহানগর ঐক্য পরিষদ নেতা সুকেন সরকার, বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুণ্ড, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নবনির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশীষ দাস, আদর্শ সদর উপজেলা ঐক্য পরিষদ সভাপতি শান্তি রঞ্জন দেবনাথ, জেলা যুব ঐক্য পরিষদ সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দে, ছাত্র ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উল্লাস দে ও জেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদ আহবায়ক প্রান্ত দে প্রমুখ।
সমগ্র সভাটি সঞ্চালনা করেন মহানগর ঐক্য পরিষদ আহবায়ক কমল চন্দ খোকন।
ওই সভায় বক্তারা বলেন- স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। বক্তারা আরও বলেন- “হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর সকল ধরনের অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।” তারা আরও বলেন- “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার” —এই চেতনা ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তাই আসুন, সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা গড়ে তুলি এবং অন্যায়, নিপীড়ন ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হই। আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ হবে এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে সকল মানুষ সমমর্যাদা, সমঅধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে । প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, শান্তি, সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি সংগঠনের বয়স বৃদ্ধির দিন নয়, এটি আদর্শ, ঐক্য ও মানবতার পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি বিশেষ মুহূর্ত। এই দিনে আমরা স্মরণ করি সেইসব মানুষদের, যাদের ত্যাগ, শ্রম ও সাহসিকতায় সংগঠনটি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকুক এটাই হোক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল প্রত্যাশা। সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানাই।