ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গভীর রাতে নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার অভিযোগ, অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর দাবি
শফিকুর রহমান শাহীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করা এক নবদম্পতিকে গভীর রাতে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, বিয়ের প্রায় এক মাস পর রাত ৩টার দিকে কোনো মামলা বা অভিযোগের বিষয়ে না জানিয়ে তাঁদের থানায় নেওয়া হয়। পরে তরুণীর মায়ের করা মামলায় স্বামী মোহাম্মদ শ্রাবনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা এবং নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাইল উপজেলার চানমনিপাড়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের মেয়ে নুসরাত জাহান ও বিজয়নগর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের দুধ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শ্রাবন গত ২৮ জুন আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিয়ের পর বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সালিশে নুসরাতকে বাবার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হলেও তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৪ জুলাই নুসরাতের মা, নানী ও খালা তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যান। এর সাত দিন পর, ২১ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বিজয়নগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় সরাইল থানার এসআই শামীমের নেতৃত্বে পুলিশ নবদম্পতিকে আটক করে সরাইল থানায় নিয়ে যায়।
নবদম্পতির পরিবারের দাবি, তাঁরা পরস্পরের সম্মতিতে বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, পরে শ্রাবনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করা হয়। তবে নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার আগে কী অভিযোগ ছিল এবং তাঁদের আটক বা গ্রেপ্তারের আইনগত ভিত্তি কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবার।
এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও পুলিশের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অসংগতি দেখা দিয়েছে।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ বলেন, “সরাইল থানা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছিল। আমরা সেই সহযোগিতা করেছি।”
সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে তাঁদের উদ্ধার করে পরে রাতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে মামলায় কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল না বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম বলেন, “আমার কাছে জিডি কিংবা অভিযোগের কোনো কপি নেই এবং এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
সরাইল থানার মুন্সি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শাহাদাৎ ও জিয়াও জানান, ২১ জুলাইয়ের রেকর্ড খাতায় কোনো জিডি বা অভিযোগ লিপিবদ্ধ নেই। তাঁদের ভাষ্য, সরাসরি মামলা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিম বলেন, অভিযোগ বা কোনো কারণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই। গ্রেপ্তারের অবশ্যই আইনগত কারণ থাকতে হবে।
নবদম্পতিকে গভীর রাতে থানায় নেওয়ার ঘটনায় জিডি বা অভিযোগের অস্তিত্ব নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে নবদম্পতিকে থানায় নেওয়ার প্রকৃত কারণ, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা এবং পুলিশের পদক্ষেপের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথি ও আনুষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।