October 11, 2026, 8:44 pm
শিরোনাম:
মহালয়ার সংগীতানুষ্ঠান শেষে চকবার আইসক্রিমে মেতে উঠলেন ছয় বিশিষ্টজন, উৎসবের আনন্দে যোগ হলো ভিন্ন মাত্রা ভাঙ্গুড়ার প্রবীণ শিক্ষক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ বরাত আর নেই জামালপুরের ইসলামপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, মাদকবিরোধী শপথ নিল শতাধিক শিক্ষার্থী কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি অষ্টগ্রাম থানার রুকুনুজ্জামান চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর প্রেসক্লাবের উন্নয়নে অনুদানের আশ্বাস এমপি রুমার মোহনগঞ্জে মেধা অন্বেষণ-২০২৬, ১০ শিক্ষার্থী পেল বৃত্তি জামালপুরের ইসলামপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ নিহত ১ রাঙ্গামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদক সেবী, সাজা ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক আসামী সহ মোট ১৫ জন আসামী গ্রেফতারঃ- কুমিল্লায় গীতা শিক্ষালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মহালয়া উৎসব উদযাপন বিজয়নগরে আসামি সহ পুলিশের গাড়ি খাদে , গুরুতর আহত ৫

মহালয়ার সংগীতানুষ্ঠান শেষে চকবার আইসক্রিমে মেতে উঠলেন ছয় বিশিষ্টজন, উৎসবের আনন্দে যোগ হলো ভিন্ন মাত্রা

রিপোর্টারের নাম

মহালয়ার সংগীতানুষ্ঠান শেষে চকবার আইসক্রিমে মেতে উঠলেন ছয় বিশিষ্টজন, উৎসবের আনন্দে যোগ হলো ভিন্ন মাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। মহালয়ার পবিত্র আবহ, ভক্তিমূলক সংগীতের মূর্ছনা আর শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তায় মুখরিত এক স্নিগ্ধ সন্ধ্যা।
দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে ধর্মীয় আবেগ, সংগীতের মাধুর্য ও উৎসবের আনন্দে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল নগরীর উত্তর ঠাকুরপাড়াস্থ শ্রী শ্রী কালীতলা কালী মন্দির প্রাঙ্গণ। মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠানে ভক্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির এক অপূর্ব আবহ তৈরি হয়। আর সেই সুরেলা আয়োজনের পরই সন্ধ্যার আনন্দে যোগ হয় এক ভিন্ন মাত্রা—চকবার আইসক্রিম হাতে নিয়ে প্রাণখোলা মুহূর্তে মেতে ওঠেন ছয় বিশিষ্টজন।
আজ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই সংগীতানুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় আবহেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং উপস্থিত মানুষের হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে শারদীয় উৎসবের আগমনী অনুভূতি। ভক্তিমূলক গানের সুরে সুরে পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও মধুর ও হৃদয়স্পর্শী। মহালয়ার চিরচেনা আবেদন, দেবী দুর্গার আগমনের প্রত্যাশা এবং শারদীয় উৎসবের আবেগ মিলেমিশে পুরো আয়োজনকে করে তোলে প্রাণবন্ত। মহালয়া বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে কেবল একটি তিথি নয়; এটি আবেগ, ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও নতুন আশার প্রতীক। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গোৎসবের প্রতীক্ষিত আবহ। আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে আগমনী বার্তা, আর সেই চিরন্তন আবেগকে ধারণ করেই উত্তর ঠাকুরপাড়ার শ্রী শ্রী কালীতলা কালী মন্দিরে আয়োজিত সংগীতানুষ্ঠান হয়ে ওঠে ভক্তি ও আনন্দের এক আন্তরিক মিলনমেলা। সংগীতের আবেশ পেরিয়ে আইসক্রিমের আনন্দে ধর্মীয় সংগীতানুষ্ঠান শেষে মন্দিরের পাশের একটি দোকানে চকবার আইসক্রিম খেতে দেখা যায় ছয় বিশিষ্ট ব্যক্তিকে। তাঁরা হলেন কুমিল্লা ধর্মসাগর পাড় সুপ্রভাত মঞ্চের সদস্য অধ্যক্ষ নিখিল চন্দ্র রায়, অধ্যক্ষ মৃণাল কান্তি গোস্বামী, অধ্যক্ষ বিধান চন্দ, অধ্যাপক অনুকূল চন্দ্র সরকার, অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র চক্রবর্তী ও অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পরিচিত এই ব্যক্তিত্বদের এমন সহজ-সরল মুহূর্ত যেন মনে করিয়ে দেয়, জীবনের প্রকৃত আনন্দ সব সময় বড় আয়োজন কিংবা আড়ম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো কখনো প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যে দাঁড়িয়ে একটি আইসক্রিম উপভোগ করা, পরিচিত মুখগুলোর সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো কিংবা ব্যস্ততার ফাঁকে হাসি-আনন্দে মেতে ওঠাই হয়ে ওঠে দিনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি। মহালয়ার সংগীতানুষ্ঠানের গাম্ভীর্য ও ভক্তিময় আবহের পর চকবার আইসক্রিমকে ঘিরে তাঁদের এই অনাড়ম্বর উপস্থিতি সন্ধ্যার পরিবেশে এনে দেয় এক স্বতঃস্ফূর্ত মানবিক আবেদন। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পর এমন একটি সাধারণ অথচ আনন্দময় মুহূর্ত উৎসবের সৌন্দর্যকে আরও জীবন্ত করে তোলে। আড়ম্বর নয়, আন্তরিকতাই আনন্দের আসল সৌন্দর্য উৎসব মানেই শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; উৎসব মানে মানুষের সঙ্গে মানুষের হৃদ্যতা, পরিচিতজনদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং হাসিমুখে আনন্দ ভাগাভাগি করা। মহালয়ার মতো আবেগঘন দিনে সংগীতানুষ্ঠানের পর কয়েকজন বিশিষ্ট মানুষের একসঙ্গে আইসক্রিম খাওয়ার এই দৃশ্য সেই চিরন্তন সত্যকেই যেন নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। সমাজে পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রায়ই বিভিন্ন সভা, অনুষ্ঠান, আলোচনা কিংবা আনুষ্ঠানিক আয়োজনে দেখা যায়। কিন্তু এসব আনুষ্ঠানিকতার বাইরে তাঁদের এমন স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত মুহূর্ত মানুষের মনে তৈরি করে ভিন্ন এক অনুভূতি। তখন পদবি, পরিচিতি কিংবা ব্যস্ততার পরিচয় ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে মানুষের সহজাত আনন্দ, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আন্তরিকতা। অধ্যক্ষ, অধ্যাপক ও আইনজীবী—বিভিন্ন পেশাগত পরিচয়ে পরিচিত এই ছয় ব্যক্তির এমন উপস্থিতি তাই শুধু একটি সাধারণ দৃশ্য নয়; বরং উৎসবের আনন্দকে সহজভাবে উপভোগ করার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত। চকবার আইসক্রিমের স্বাদে তাঁদের এই আনন্দঘন সময় যেন মনে করিয়ে দেয়, জীবনের ব্যস্ততম অধ্যায়ের মধ্যেও ছোট ছোট আনন্দকে আপন করে নেওয়া প্রয়োজন। মহালয়ার আবেগে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা মহালয়া বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান বিশ্বাস, সংগীত, স্মৃতি ও আবেগ। দেবীপক্ষের সূচনায় মানুষ যেমন শুভশক্তির জাগরণ কামনা করে, তেমনি প্রত্যাশা করে শান্তি, কল্যাণ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজজীবনের। উত্তর ঠাকুরপাড়ার শ্রী শ্রী কালীতলা কালী মন্দিরে আয়োজিত সংগীতানুষ্ঠান এবং অনুষ্ঠান-পরবর্তী এই অনাড়ম্বর মুহূর্ত সেই উৎসবমুখর আবহেরই একটি সুন্দর প্রতিচ্ছবি। ধর্মীয় আয়োজন মানুষের মনে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি এনে দেয়, আর আয়োজনের পর পরিচিতজনদের সঙ্গে কাটানো সহজ-সরল সময় সেই আনন্দকে আরও আপন করে তোলে। উৎসবের সৌন্দর্য এখানেই—এটি মানুষকে কাছাকাছি আনে, সম্পর্কগুলোকে আরও উষ্ণ করে এবং দৈনন্দিন ব্যস্ততার বাইরে কিছুটা নির্ভার হওয়ার সুযোগ করে দেয়। একটি আইসক্রিমকে ঘিরে কয়েকজন মানুষের একসঙ্গে সময় কাটানো তাই কখনো কখনো বড় কোনো আয়োজনের চেয়েও বেশি আন্তরিকতার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। ছোট্ট মুহূর্ত, বড় হয়ে ওঠা স্মৃতি দিনের শেষে মানুষের মনে থেকে যায় কিছু দৃশ্য, কিছু হাসি, কিছু পরিচিত মুখ আর কিছু অনাড়ম্বর মুহূর্ত। মহালয়ার এই সন্ধ্যায় সংগীতের সুরে ভক্তির আবেশ অনুভব করার পর চকবার আইসক্রিম হাতে ছয় বিশিষ্টজনের একসঙ্গে সময় কাটানোও তেমনই একটি স্মরণীয় দৃশ্য হয়ে থাকল। এখানে নেই বিশেষ আড়ম্বরের প্রয়োজন, নেই আনন্দ প্রকাশের জটিল আয়োজন; আছে কেবল পরিচিত মানুষের সান্নিধ্য, উৎসবের আবহ এবং দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে আসা একটুখানি স্বস্তি। আর এই স্বস্তির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে জীবনের সহজ অথচ গভীর সৌন্দর্য। মহালয়ার সন্ধ্যা তাই শুধু সংগীতের মূর্ছনা কিংবা ধর্মীয় আবহেই পূর্ণতা পায়নি; অনুষ্ঠান শেষে চকবার আইসক্রিমকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই প্রাণবন্ত মুহূর্তও সন্ধ্যাটিকে দিয়েছে আলাদা আবেদন। ভক্তি ও আনন্দ, ঐতিহ্য ও আন্তরিকতা, আনুষ্ঠানিকতা ও সহজ-সরল জীবনের এমন মেলবন্ধনই উৎসবকে মানুষের হৃদয়ে আরও গভীরভাবে জায়গা করে দেয়। শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তার এই আবেগঘন সময়ে প্রত্যাশা—মহালয়ার পবিত্রতা, সংগীতের মাধুর্য ও মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক সবার জীবনে। অশুভের বিনাশ ও শুভশক্তির জাগরণের প্রত্যাশার পাশাপাশি প্রতিটি মানুষের জীবনে ফিরে আসুক শান্তি, আনন্দ ও সম্প্রীতির আলো। কারণ, উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু মন্দিরের প্রার্থনায় কিংবা মঞ্চের সংগীতে নয়; তা লুকিয়ে থাকে মানুষের হাসিমুখে, আন্তরিক সম্পর্কে এবং এমন ছোট ছোট আনন্দঘন মুহূর্তে, যেগুলো একসময় হয়ে ওঠে হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা এক টুকরো মধুর স্মৃতি। মহালয়ার সুরেলা সন্ধ্যা শেষে চকবার আইসক্রিমের এই ছোট্ট আয়োজন যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দিল—বড় আনন্দের জন্ম অনেক সময় হয় জীবনের সবচেয়ে সাধারণ মুহূর্তগুলো থেকেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST