ঝালকাঠিতে সন্তানের লাশ নিয়ে মানববন্ধনের দাড়িয়ে বিচার চাওয়া মা ও তার পরিবার হুমকী দিচ্ছে মামলার আসামীরা
মোঃ মাছুম বিল্লাহ ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠিতে সন্তানের লাশ নিয়ে মানববন্ধনের দাড়িয়ে বিচার চাওয়া মা লিয়া মনি আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকী দিচ্ছে মামলার আসামীরা। গতকাল শনিবার সকালে লিয়া মনি আক্তারের বাবা মো. ফারুক মাঝি এ অভিযোগ করেন। এর আগে ২৩ মার্চ দুপুরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ভাউতিতা সড়কে মা লিয়া মনি আক্তার তার ১৩ মাসের কন্যা সন্তান জেসমিন এর লাশ নিয়ে বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে দাড়ান। মেয়ের জন্মদাতা প্রেমিক হৃদয় বেপারীর জন্য শিশু জেসমিনের মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ মা লিয়া মনি। মেয়ে হত্যার জন্য হৃদয় বেপারির ফাঁসি চাওয়া হয় ওই মানববন্ধন থেকে। তখন ঘটনাটি জেলা জুড়ে আলোচিত হয়। পরে এঘটনার প্রধান আসামী হৃদয় বেপারীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তবে মামলার অন্য আসামী আব্দুল মনান্ন হাওলাদার ও মো. রফিক হাওলাদার প্রকাশ্যে ঘুরে বেরায়। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনি এমন অভিযোগ মামলার বাদী পক্ষে। উল্টো এরা দুইজন মামলার বাদি লিয়া মনি আক্তার ও তাদের পরিবারের সদ্যদের মামলা তুলে নিয়ে হুমকী দেয়। প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কিছু বলতে কিছু বলতে পারছে না। অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, ২০২১ সালে একই এলাকার হৃদয় বেপারির সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান লিয়া মনি। প্রেমিক হৃদয় বেপারীর সাথে অবৈধ ভাবে মেলামেশার এক পর্যায়ে গর্ভবতি হন লিয়ামনি। ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী বরিশালের শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কণ্যা সন্তানের জন্ম দেন লিয়া মনি। এসময় প্রেমিক হৃদয় বেপারী তার মামা রফিক হাওলাদার ও নানা মান্নান হাওলাদার সাথে ছিলেন। হাসপাতাল থেকে বাসা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কৌশলে নবজাত শিশু নিয়ে পালিয়ে যান হৃদয় বেপারি ও তার স্বজনরা। পরে রাস্তার পাসে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। সেখান থেকে এক ভিক্ষুক উদ্ধার করে চাইল্ড হোমে পাঠান। সেখানে বেরে ওঠে ওই নবজাতক শিশু। ঘটনার তিন মাস পরে খবর পেয়ে লিয়া মনির পরিবার ওই শিশুটিকে আনার ইচ্ছে প্রকাশ করে। ডিএনএ পরিক্ষা সহ অন্যান্য আইনী প্রকৃয়া শেষ করে এবছরের ৯ মার্চ ওই শিশুকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে আসে। শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু জেসমিন এর মৃত্যু হয়। ধর্ষনের অভিযোগ এনে লিয়া মনি বাদি হয়ে হৃদয় বেপারী সহ তিন জনের বিরুদ্ধে গত ৯ মার্চ ঝালকাঠি থানায় মামলা করেছেন। ঝালকাঠি সদর থানার এসআই পারভেজ বলেন,‘ ডিএনএ পরিক্ষায় পজেটিভ আসছে। নবজাকত এর সাথে মামলার ১ নং আসামী হৃদয় বেপারীর ডিএনএ পরিক্ষয় মিল রয়েছে।
মোঃ মাছুম বিল্লাহ
ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি
০১৭১১০৫৫৯৭৯