লুলাইং সড়কে চলমান কাজ বন্ধ থাকায় চরম জনদুর্ভোগ সাধারন মানুষ,
উপজেলা প্রতিনিদধি মো: আলীহোসেন
ফসল বাজারজাত বন্ধ, আমন চাষাবাদেও সংকট—দ্রুত সড়ক সচলের দাবি।
বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম লুলাইং সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরিয়া থমকিয়া থাকায় চলতি বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় জনসাধারণ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়িয়াছেন। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হইয়া পড়িয়াছে। কোথাও কোথাও পায়ে হেঁটেও চলাচল করা দুঃসাধ্য হইয়া উঠিয়াছে। ফলে কৃষিনির্ভর এই জনপদের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত বিপর্যস্ত হইয়া পড়িয়াছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লুলাইং এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষিজীবী। এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরিয়া সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় কৃষকেরা উৎপাদিত শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পার্শ্ববর্তী কেয়াজুপাড়া বাজার ও আমিরাবাদে লইয়া যাইয়া বিক্রি করিতে পারিতেছেন না। ফলে মাঠে উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণ ব্যাহত হইয়া কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হইতেছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, চলতি আমন মৌসুমেও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ের অনুমোদিত ডিলারের নিকট হইতে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার সংগ্রহ করিতে তাহারা বিড়ম্বনায় পড়িয়াছেন। সময়মতো সার সংগ্রহ করিতে না পারায় আমন চাষাবাদ নিয়াও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়াছে।
বর্ষার পানিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হইয়া পড়িয়াছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হইয়াছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আনা-নেওয়াও প্রায় অসম্ভব হইয়া পড়িয়াছে। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে চিকিৎসাকেন্দ্রে লইয়া যাইতেও স্থানীয়দের চরম ভোগান্তির শিকার হইতে হইতেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে সড়কটির নির্মাণকাজ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চলমান থাকিলেও দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ ক্রমেই তীব্রতর হইতেছে। সড়কটি দ্রুত চলাচল উপযোগী করা না হইলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করিতে পারে বলিয়া আশঙ্কা করিতেছেন তাঁহারা।
এ ব্যাপারে এলজিইডি বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ানের সহিত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হইলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। অপরদিকে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হইতে জানা যায়, এলজিইডি বিভাগের ফান্ডে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হইতেছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলিতেছেন, একটি সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ঝুলিয়া থাকায় শুধু যোগাযোগব্যবস্থাই বিপর্যস্ত হয় নাই; ইহার সরাসরি প্রভাব পড়িয়াছে কৃষকের জীবন-জীবিকা, উৎপাদিত ফসলের বাজারজাতকরণ এবং চলতি আমন মৌসুমের চাষাবাদের উপর। কৃষিপ্রধান লুলাইং এলাকার মানুষের স্বার্থে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের নিকট অবিলম্বে সড়কটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ এবং সড়কটি যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করিবার দাবি জানাইয়াছেন। একই সঙ্গে কৃষকদের সার ও কৃষিপণ্য পরিবহনের স্বাভাবিক সুযোগ নিশ্চিত করিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করিয়াছেন তাঁহারা।
লুলাইংবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাইয়া দ্রুত সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হউক এবং কৃষিনির্ভর এই জনপদের মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটুক।