September 28, 2026, 10:54 pm
শিরোনাম:
পত্নীতলায় পুলিশের অভিযান: ২৫ ফেন্সিডিলসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর আশু আরোগ্য কামনায় নাসিরনগরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ফরিদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: দেশীয় অস্ত্র ও ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার জামালপুরে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত ধামইরহাটে মোবাইল ফোন নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ তাওকিরের অপকর্মে ইমেজ সংকটে অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদল বিজয়নগরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত। ১০–১২ বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ফরিদপুরে বিভিন্ন মামলার ৩ জন গ্রেফতার রামপালে ছাত্রদল নেতা শোভনের উদ্যোগে সামাজিক সচেতনতামূলক নাটক প্রদর্শন মাদারবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা

বিজয়নগরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত। ১০–১২ বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ

রিপোর্টারের নাম

বিজয়নগরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত।
১০–১২ বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ
শফিকুর রহমান শাহীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সংঘর্ষের সময় ১০ থেকে ১২টি বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনাম খাঁ ও হাজী আকতার মিয়ার মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে ওইদিন উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকালেও উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনাম খাঁ অভিযোগ করে বলেন, শনিবার আক্তার মিয়ার লোকজন তাঁর ওপর হামলা করলে তিনি পানিতে নেমে আত্মরক্ষা করেন। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর নব্য বিএনপি ব্যবসায়ী আকতার মিয়া যুবদল নেতা রুবেলকে সঙ্গে নিয়ে প্রভাব বিস্তারের জন্য লোকজন নিয়ে তার সঙ্গে গায়ে পড়ে ঝগড়া করেন। উদ্দেশ্য একটাই—তাকে যদি কোনোভাবে থামানো যায়, তাহলে আকতার মিয়া এলাকায় বড় নেতা হিসেবে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন।”
এনাম খাঁর অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা রুবেলের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে এনাম খাঁর অভিযোগ অস্বীকার করে হাজী আকতার মিয়া বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে তাঁর কোনো বড় পদ-পদবি নেই।
তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের পর এনাম খাঁর সঙ্গে যাদের সম্পর্ক ভালো, তাদের বিএনপি হিসেবে বিবেচনা করা হয়; অন্যদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে।
আকতার মিয়া আরও অভিযোগ করেন, তাঁকেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম এবং সভাপতি ও সংসদ সদস্য খালেদ মাহবুব শ্যামলের সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও জানান।
আকতার মিয়ার দাবি, “গতকাল এনাম খাঁ তাঁর লোকজন নিয়ে তার লোকজনের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন এবং তিনটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, সংঘর্ষে জিল্লু মিয়া (৩৫) মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এক বয়স্ক নারী দুই আঙুলে আঘাত পেয়েছেন এবং বিল্লাল (৪০) বুকের আঘাত নিয়ে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে।
খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, “তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রভাব বিস্তারের দ্বন্দ্ব ছিল। সেই সূত্র ধরেই ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষের লোকজন রাতে থানায় এসে আর ঝগড়া করবে না বলে জানান কিন্তু সকালে আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে যারা অন্যায় করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শফিকুর রহমান শাহীন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
মুঠোফোন: ০১৭১৭৪৯০৭৫৬


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST