ফরিদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: দেশীয় অস্ত্র ও ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার
মোঃ ছাবেদুল সরকার ,পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার ফরিদপুর থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে চায়না রাইফেলের ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও দেশীয় তৈরি একাধিক ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) রাতে উপজেলার হাদল ইউনিয়নের কুচলিয়া গ্রাম এলাকা থেকে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট ফরিদপুর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. মনজুরুল হাসান মাসুদ। যোগদানের পর থেকেই তিনি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার হাদল ইউনিয়নে সর্বহারা নকশাল (লাল পতাকা) বাহিনীর সদস্যরা বিলে ঘেরা দুর্গম চরাঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে রাতে একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই এলাকার সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে খাল-বিল ও জলাশয় দখল, জমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটপাট এবং ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল সন্ত্রাসী গ্রুপটি। এমনকি ইতিপূর্বে হাদল এলাকায় হত্যা ও গুমের মতো একাধিক ঘটনাও ঘটেছে এবং ফরিদপুর থানায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওসি মো. মনজুরুল হাসান মাসুদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ আভিযানিক ও গোয়েন্দা দল গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে নকশাল বাহিনীর একটি গ্রুপ হাদল এলাকায় বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ করছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ হাদল ইউনিয়নের কুচলিয়া গ্রামের একটি পাকার রাস্তার পাশে বটগাছের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকানো একটি বস্তা থেকে অস্ত্র ও গুলি জব্দ করে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিবরণ: চায়না রাইফেলের তাজা গুলি: ১৫ রাউন্ড,চাপাতি ১টি, বাটসহ ছুরি ১টি,ধারালো দা ৩টি,
ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুরুল হাসান মাসুদ জানান, “এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সর্বসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে যেকোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। হাদল এলাকাসহ পুরো উপজেলায় সন্ত্রাসী দমনে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করছি।”
এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অস্ত্র ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চিরুনি অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।