May 8, 2026, 11:26 am
শিরোনাম:
জামিনে মুক্ত হলেন সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট আ. লীগ নেতা শেখ মো. আব্দুল আহাদ ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যুক্ত হলো নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় পশ্চিম ছাতনাই ঠাকুরগঞ্জ বাজার হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পাগড়ি প্রদান ও তাফসির মাহফিলে এমপি কিডনী রোগে আক্রান্ত আমিনুল ইসলামের বাঁচার আকুতি ঘরে বসে বেতন শিক্ষকদের, ক্লাসে অষ্টম শ্রেণিপাস বর্গা শিক্ষক—দুর্গম স্কুলে শিক্ষার বেহাল দশা নাটোরে বড়াইগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও এমপিকে সংবর্ধনা কক্সবাজার বিজিবি ক্যাম্পে সংখ্যালঘু পরিবারের বসতভিটায় হামলার অভিযোগ, জমি দখলের হুমকি নেত্রকোনায় ধান শুকাতে ব্যস্ত কৃষক, ঝলমলে রোদে জনমনে ফিরেছে স্বস্তি সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা :নেত্রকোনায় গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর সোমবার সকাল থেকে রোদের দেখা মিলেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ঝলমলে রোদ। পানিও কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এতে হাওরাঞ্চলের কৃষকের মনে স্বস্তি ফিরেছে। অনেকেই কাটা ধান ও গবাদিপশুর জন্য খড় রাস্তায় ও আঙিনায় ত্রিপল বিছিয়ে রোদে শুকাতে দিয়েছেন। কেউ কেউ পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার বাহাদুরকান্দা এলাকার কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, ‘সোমবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত দিন ভালোই যাইতাছে। সকাল থেকে কড়া রইদ উঠছে। ভিজা কিছু ধান ও খড় সড়কে শুকাতে দিছি। এভাবে কয়েক দিন রইদ উঠলে ধান আর গরুর জন্য খড় শুকানো যাইব।’ বড়খাপন গ্রামের কৃষক জীবন সরকার বলেন, ‘গত চার দিন ভারী বৃষ্টি না থাকায় গুরাডোবা হাওরের পানি হালকা কমেছে। পরিবারের লোকজন নিয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া তিন কাঠা (২৪ শতক) ধান কেটেছি। এভাবে টানা রোদ উঠলে কিছুটা হলেও আমাদের মতো কৃষকদের রক্ষা হবে।’ এদিকে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে আরও জানা গেছে,গত বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত নেত্রকোনার বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা বৃষ্টি হলেও ভারী বৃষ্টি হয়নি। এতে কংস ও উব্দাখালী নদীর পানি কমেছে। তবে ধনু নদের পানি খালিয়াজুরি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। অবশ্য এতে বন্যার বা হাওরের ধান খেতে কোনো প্রভাব পড়বে না। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ৭২ ঘণ্টায় নেত্রকোনায় ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। আগামী তিন দিন ভারী বৃষ্টি বা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ধনু নদের পানি বাড়ার কারণ হলো জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ধনু নদ দিয়ে মেঘনায় প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, জেলায় আবাদ করা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমির মধ্যে হাওরাঞ্চলে আবাদ হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিতে ১৮ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৭২ হাজার কৃষক পরিবার। তবে স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। খালিয়াজুরি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান হেকিম বলেন, হাওরে তাঁদের একমাত্র ফসলই হচ্ছে বোরো ধান। এই ধানের ওপর তাঁদের সারা বছর সংসারের খরচ নির্ভর করে। এবার অতিরিক্ত বৃষ্টিতে হাওরের অর্ধেক খেতের ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। পানি আসার আগে ডিজেল–সংকটে হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা যায়নি। এরপর পানি এলে বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যায়নি। মোহনগঞ্জের খুরশিমুল গ্রামের কৃষক আলয় সরকার বলেন, ডিঙাপোতা হাওরে অনেক ধান পানির নিচে। এখন রোদ থাকলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। ০৭/০৫/২০২৬ ইং নেত্রকোনায় ধান শুকাতে ব্যস্ত কৃষক, ঝলমলে রোদে জনমনে ফিরেছে স্বস্তি চিকিৎসক নেই, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাবুর্চির হাতে চিকিৎসাসেবা

ঘরে বসে বেতন শিক্ষকদের, ক্লাসে অষ্টম শ্রেণিপাস বর্গা শিক্ষক—দুর্গম স্কুলে শিক্ষার বেহাল দশা

রিপোর্টারের নাম

ঘরে বসে বেতন শিক্ষকদের, ক্লাসে অষ্টম শ্রেণিপাস বর্গা শিক্ষক—দুর্গম স্কুলে শিক্ষার বেহাল দশা
(বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি) (শাহাদাত হোসেন বাপ্পি)

বান্দরবান পার্বত্য জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা আলীকদমের কুরুকপাতা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে কার্যত ভেঙে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। এতে করে পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, উপজেলার ৪ নং কুরুক পাতা ইউনিয়নের কমচঙ ইয়াংছু মারুম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাংলাই দাংলি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং খিদু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান হয় না। অধিকাংশ সময়ই শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন।
অভিযোগ রয়েছে, সংবাদকর্মীদের আগমনের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট একটি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক একদিন পর বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলেও অন্য দুই স্কুলের শিক্ষকরা যাননি। একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধিরা তিনটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষক অনুপস্থিতির একই ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, এসব বিদ্যালয়ে আগে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-এর আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বর্তমানে দায়িত্ব পালন করলেও অনেকেই নিয়মিত স্কুলে যান না। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তারা বেতন-ভাতা পেয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, সরকার দুর্গম এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিদ্যালয় নির্মাণ করলেও তদারকির ঘাটতিতে সেই উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে মুরংসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ছে।
মংচিং হ্যাডমেন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আফসার বলেন, “কিছু শিক্ষকের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে নিয়মিত পাঠদানকারী শিক্ষকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমরা চাই, সকল শিক্ষক দায়িত্বশীলভাবে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকুন এবং শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখুন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক অনুপস্থিতির অভিযোগ পাচ্ছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে ১৩ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “দুর্গমতার কারণে মনিটরিং কঠিন হলেও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনা জোনের সহযোগিতায় এসব বিদ্যালয়কে নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা হবে। শিক্ষকরা দায়িত্বে অবহেলা করলে তাদের বেতন বন্ধসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল আলম বলেন, “যেসব শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন না, তাদের সতর্ক করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বেতন বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অতীতে অনিয়ম করে বেতন গ্রহণ করলে তা ফেরত আনার বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য শিক্ষা থেকে আর বঞ্চিত না হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page

নেত্রকোনায় ধান শুকাতে ব্যস্ত কৃষক, ঝলমলে রোদে জনমনে ফিরেছে স্বস্তি সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা :নেত্রকোনায় গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর সোমবার সকাল থেকে রোদের দেখা মিলেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ঝলমলে রোদ। পানিও কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এতে হাওরাঞ্চলের কৃষকের মনে স্বস্তি ফিরেছে। অনেকেই কাটা ধান ও গবাদিপশুর জন্য খড় রাস্তায় ও আঙিনায় ত্রিপল বিছিয়ে রোদে শুকাতে দিয়েছেন। কেউ কেউ পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার বাহাদুরকান্দা এলাকার কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, ‘সোমবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত দিন ভালোই যাইতাছে। সকাল থেকে কড়া রইদ উঠছে। ভিজা কিছু ধান ও খড় সড়কে শুকাতে দিছি। এভাবে কয়েক দিন রইদ উঠলে ধান আর গরুর জন্য খড় শুকানো যাইব।’ বড়খাপন গ্রামের কৃষক জীবন সরকার বলেন, ‘গত চার দিন ভারী বৃষ্টি না থাকায় গুরাডোবা হাওরের পানি হালকা কমেছে। পরিবারের লোকজন নিয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া তিন কাঠা (২৪ শতক) ধান কেটেছি। এভাবে টানা রোদ উঠলে কিছুটা হলেও আমাদের মতো কৃষকদের রক্ষা হবে।’ এদিকে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে আরও জানা গেছে,গত বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত নেত্রকোনার বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা বৃষ্টি হলেও ভারী বৃষ্টি হয়নি। এতে কংস ও উব্দাখালী নদীর পানি কমেছে। তবে ধনু নদের পানি খালিয়াজুরি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। অবশ্য এতে বন্যার বা হাওরের ধান খেতে কোনো প্রভাব পড়বে না। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ৭২ ঘণ্টায় নেত্রকোনায় ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। আগামী তিন দিন ভারী বৃষ্টি বা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ধনু নদের পানি বাড়ার কারণ হলো জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ধনু নদ দিয়ে মেঘনায় প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, জেলায় আবাদ করা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমির মধ্যে হাওরাঞ্চলে আবাদ হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিতে ১৮ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৭২ হাজার কৃষক পরিবার। তবে স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। খালিয়াজুরি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান হেকিম বলেন, হাওরে তাঁদের একমাত্র ফসলই হচ্ছে বোরো ধান। এই ধানের ওপর তাঁদের সারা বছর সংসারের খরচ নির্ভর করে। এবার অতিরিক্ত বৃষ্টিতে হাওরের অর্ধেক খেতের ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। পানি আসার আগে ডিজেল–সংকটে হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা যায়নি। এরপর পানি এলে বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যায়নি। মোহনগঞ্জের খুরশিমুল গ্রামের কৃষক আলয় সরকার বলেন, ডিঙাপোতা হাওরে অনেক ধান পানির নিচে। এখন রোদ থাকলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। ০৭/০৫/২০২৬ ইং

Developed by: BD IT HOST