রাঙ্গামাটির বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে, এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধের নির্দেশ–বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সর্বজিৎ চাকমা,রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:
টানা সাত দিনের অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। দুর্যোগের শুরু থেকেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ত্রাণ, উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় কাজ চলছে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যেন সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সরকার সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।
গতকাল রোববার রাঙ্গামাটি জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিং কালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি এ কথা বলেন।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যােগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সন্ধ্যা ৬টায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলার সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (যুগ্মসচিব) সুমন বড়ুয়া, জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট মো. সাদ্দাম হোসেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক নিউটন দাসসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং রাঙ্গামটি জেলা বিএনপি’র নের্তৃবৃন্দ।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি আদায় আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিলম্বে একসাথে অনেকগুলি কিস্তি নেওয়া ও পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত সুদ বা জরিমানা না নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, যাদের ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন ও ঘরবাড়ি মেরামতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি ও মৎস্য খামারের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে দ্রুত কৃষক ও খামারিদের মাঝে প্রণোদনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের জন্য সড়ক বিভাগ ও এলজিইডিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক দৃর্যোগের কারনে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, সেসব এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আগামী সপ্তাহে আবারও রাঙ্গামাটি সফর এসে বন্যা পরিস্থিতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, জনগণের এই সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সরকারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলায় দুর্যোগ মোকাবেলা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে।