উল্লাপাড়ার প্রবাসী জুলফিকার রহমানের বিরুদ্ধে অর্থপাচারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ
মোঃ ইয়াছিন আলী সিরাজ গনজ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জুলফিকার রহমান এবং তার বোন গুলশান আরাকে ঘিরে অর্থপাচার, সম্পদ আত্মসাৎ, কর-সংক্রান্ত অনিয়ম, ব্যক্তিগত আর্থিক প্রতারণা ও মানহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অপরদিকে নানান অপরাধে অভিযুক্ত জুলফিকার রহমানকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগসূত্রে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে জুলফিকার রহমান একাধিকবার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করে অবৈধভাবে অর্থ বিদেশে স্থানান্তর, দেশে-বিদেশে সম্পদ অর্জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করেছেন। তার আয়, সম্পদের উৎস ও আর্থিক লেনদেন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবী করেন।
থানায় লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জুলফিকার রহমান ও তার বোন গুলশান আরার বিরুদ্ধে দেশে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সম্পদ ও জমি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রনকনকোমা এলাকার একটি আবাসিক সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে আর্থিক ও চুক্তিগত বিরোধের বিষয়ও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই বিরোধের জেরে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার ও হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে তার পারিবারিক জীবন সম্পর্কেও বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সন্তানদের প্রতি পারিবারিক দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। আরও দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে একজন নারীর পরিচয় গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া এবং আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মতো ঘটনাও তদন্তের দাবি রাখে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র কোনো সরকারি সত্যতা এই প্রতিবেদকের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে জুলফিকার রহমানকে ঘিরে পূর্বে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ভাড়া-সংক্রান্ত বিরোধ, প্রতারণা ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় গত ২৬ জুলাই মো. আপেল মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৭৫৭) করেন। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে জুলফিকার রহমান তার পরিবারের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়। ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি বিষয়টি থানায় সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং কর কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এসব বিষয়ে প্রবাসী জুলফিকারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি