বিজয়নগরে শতবর্ষী পুকুর ভরাট: পরিবেশ আইনে মামলা.
শফিকুর রহমান শাহীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের সেমড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষি পুকুর ভরাটের ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী ৮ জনের নাম উল্লেখপূর্ব মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) পরিবেশ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসান বাদী হয়ে বিজয়নগর থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন। পরে থানায় মামলাটি রুজু করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের সেমড়া মৌজার জে.এল নং-১৬৬, বি.এস খতিয়ান নং-৪৩৯ এবং বি.এস দাগ নং-৬৬২-এর ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী পুকুর ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ মিটার দূর থেকে বালু এনে ভরাট করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক গত ২১ ও ২৩ জুলাই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুকুর ভরাটের সত্যতা পান। অভিযুক্তদের ভরাট কার্যক্রম বন্ধ এবং ভরাটকৃত অংশ অপসারণ করে পুকুরটি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হলেও তারা তা উপেক্ষা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে ড্রেজারের পাইপলাইন ধ্বংস করেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা আদায় করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অভিযুক্তরা পুকুর ভরাটের কাজ অব্যাহত রাখেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে আসছিল। পুকুরটি ভরাটের ফলে জলজ ও স্থলজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন— সরবরাহকারী ঠিকাদার বাহারাম খান, মো. সাজেদুল করিম, মো. দুধ মিয়া আরজু মিয়া, সহ আরো অনেকের নাম উল্লেখপূর্বক মামলা দায়ের করা হয়েছে , সবাই সেমড়া গ্রামের বাসিন্দা।
তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৪(২), ৬(৩) ও ১২ ধারা লঙ্ঘন এবং একই আইনের ১৫(১) ধারার টেবিলের ক্রমিক ১, ৮ ও ১২ অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মামলাটি পরিবেশ আদালত আইন, ২০১০-এর অধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবেশ আদালতে বিচারাধীন হবে।
শফিকুর রহমান শাহীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া 01717490756