পাবনায় খাসচরে খাল খননের উদ্যোগে তিন ফসলি আবাদি জমি হুমকিতে, ক্ষুব্ধ কৃষক
পাবনা প্রতিনিধিঃ
পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পীরপুর এলাকায় খাসচর বলরামপুর মৌজায় বিস্তীর্ণ আবাদি জমির ওপর দিয়ে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপাশি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এস.এস খতিয়ান নং-৫৩৮-এর অন্তর্ভুক্ত দাগ নং-১৮৮০ এবং আর.এস দাগ নং ৩৩০৪ (আংশিক), ৩৩০৩ (আংশিক), ৩২৩১ (আংশিক), ৩২৩০ (আংশিক), ৩২২৯ (আংশিক), ৩২২৮ (আংশিক), ৩২২৭ (আংশিক), ৩২২৬ (আংশিক), ৩২২৫ (আংশিক), ৩২২৪ (আংশিক), ৩২২৩ (আংশিক), ৩২২২ (আংশিক), ৩৩১৯ (আংশিক), ৩৩১৮ (আংশিক), ৩৩১৭ (আংশিক), ৩৩১৬ (আংশিক), ৩৩১৫ (আংশিক), ৩৩১৪ (আংশিক) ও ৩৩১৩ (আংশিক)সহ আশপাশের একাধিক জমি সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমি।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এসব জমিই তাদের একমাত্র জীবিকার উৎস। বছরের পর বছর ধরে তারা ইরি ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে সংসার চালিয়ে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে এই জমির ওপর দিয়ে খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হলে তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
কৃষকরা আরো বলেন, একসময় তারা প্রাকৃতিক বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে সেচব্যবস্থা, উন্নত বীজ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে তুলনামূলক কম জমিতে বেশি ফলন সম্ভব হচ্ছে এবং তাদের আয়ও কিছুটা বেড়েছে। এমন অবস্থায় আবাদি জমি নষ্ট হলে তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়বে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর জোরপূর্বক খাল খনন করা হলে শুধু জমির ক্ষতিই নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতাও বিঘ্নিত হবে। এতে যে কোনো সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
কৃষকদের মতে, উন্নয়নের নামে উর্বর কৃষিজমি বিনষ্ট করা কোনোভাবেই টেকসই নয়। বরং এতে গ্রামীণ অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কৃষিনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কৃষি এখনো অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি, যেখানে বিপুল জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত খাল খননের কার্যক্রম স্থগিত করে আবাদি জমি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিনির্ভর অঞ্চলে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয়দের মতামত ও জমির মালিকানা যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরিকল্পিত খাল খনন একদিকে খাদ্য উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে, অন্যদিকে গ্রামীণ দারিদ্র্যও বাড়াতে পারে।
পীরপুর এলাকার কৃষকদের এই আন্দোলন এখন শুধু জমি রক্ষার প্রশ্ন নয়, এটি তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।