মাতৃবিয়োগের অমলিন শূন্যতা: মায়ের আত্মার শান্তি কামনায় এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকারের প্রার্থনা ও প্রসাদ বিতরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
জীবনের সবচেয়ে গভীর শূন্যতার নাম মাতৃবিয়োগ। পৃথিবীর কোনো প্রাপ্তি, কোনো সাফল্য কিংবা জীবনের দীর্ঘ পথচলাও মায়ের শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। মায়ের স্নেহের পরশ, আঁচলের ছায়া আর মমতার স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকে। সেই অমোঘ সত্যেরই এক বেদনাবিধুর প্রতিচ্ছবি কুমিল্লার পরিচিত আইনজীবী ও সামাজিক অঙ্গনের মুখ এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকারের জীবনকাহিনি।
শৈশবেই গর্ভধারিণী মাতা স্বর্গীয়া যোগমায়া সরকারকে হারান এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। যে বয়সে একটি শিশু মায়ের আঁচল ধরে পৃথিবীকে চিনতে শেখে, মায়ের কণ্ঠে নিরাপত্তা খুঁজে পায়, মায়ের হাত ধরে জীবনের প্রথম পদক্ষেপ নিতে শেখে—সেই কোমল সময়েই মাতৃস্নেহের ছায়া থেকে বঞ্চিত হতে হয় তাঁকে।
মায়ের আদর-স্নেহের স্মৃতি তাঁর শৈশবকে পূর্ণ করে তুলতে না পারলেও জীবনের সেই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর দিদিমা ও একমাত্র মামা। তাঁদের অকৃত্রিম স্নেহ, মমতা, আদর ও ভালোবাসায় ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠেন তিনি। মাতৃহারা শিশুটির জীবনে তাঁরা মায়ের অভাব পুরোপুরি পূরণ করতে না পারলেও ভালোবাসা ও আশ্রয়ের যে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তা আজও গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার।
জীবনের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আজ তিনি সমাজে প্রতিষ্ঠিত। আইন অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন। কিন্তু জীবনের এই অর্জন ও ব্যস্ততার মাঝেও হৃদয়ের এক কোণে মায়ের জন্য রয়ে গেছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।
সময়ের স্রোত বয়ে যায়, মানুষ বড় হয়, জীবনের ব্যস্ততা বাড়ে, কত সম্পর্ক আসে-যায়; কিন্তু মায়ের স্মৃতি কখনো পুরোনো হয় না। বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শৈশবের সেই হারিয়ে যাওয়া মায়ের মুখ, স্নেহের স্পর্শ এবং মমতার স্মৃতি যেন আরও গভীরভাবে হৃদয়ে ফিরে আসে। এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকারের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
মাতৃদেবী স্বর্গীয়া যোগমায়া সরকারের বিদেহী আত্মার শান্তি, সৎগতি ও পরম কল্যাণ কামনায় শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইংরেজি, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, মধ্যাহ্নে কুমিল্লা নগরীর রাণীর বাজার রোডস্থ শ্রীশ্রী রাসস্থলী (রামঠাকুর) আশ্রমে এক বিশেষ পূজার্চনা, প্রার্থনা ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়।
আয়োজনটি ছিল একদিকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, অন্যদিকে মায়ের প্রতি সন্তানের চিরন্তন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক আবেগঘন বহিঃপ্রকাশ। পূজার্চনা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে স্বর্গীয়া যোগমায়া সরকারের বিদেহী আত্মার শান্তি ও সৎগতি কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত হয়ে প্রার্থনায় অংশ নেন এবং স্বর্গীয়া যোগমায়া সরকারের আত্মার শান্তি কামনা করেন। পরে মধ্যাহ্নে অতিথি ও উপস্থিত সবার মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায়, সহ-সভাপতি হারাধন শীল, জেলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সুপ্রভাত ধর্মসাগর পাড় মঞ্চের মুখপাত্র অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী, সাবেক জিপি এডভোকেট তপন বিহারী নাগ, মহেশাঙ্গণ লোকনাথ স্মৃতি তর্পণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক হারাধন ভৌমিক, রাণীর বাজার রোডস্থ শ্রীশ্রী রাসস্থলী (রামঠাকুর) আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক ড. দুলাল নন্দী, সুপ্রভাত ধর্মসাগর পাড় মঞ্চের সদস্য অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায়, অধ্যাপক অনুকূল চন্দ্র দাশ, সুমন চন্দ্র দেবনাথ, ভূষণ সূত্রধর, ডা. নারায়ণ চন্দ্র পালসহ তাঁর পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
প্রার্থনাকালে উপস্থিত সবাই স্বর্গীয়া যোগমায়া সরকারের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। মায়ের স্মৃতিকে ঘিরে আয়োজিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যেও ছিল আবেগ ও শ্রদ্ধার আবহ। একজন সন্তানের জীবনে মায়ের স্থান যে কতটা গভীর, তা যেন অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্তে অনুভূত হয়েছে।
মাতৃহারা শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার তাঁর দিদিমা ও একমাত্র মামার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের ভালোবাসা ও স্নেহের ঋণ তিনি আজীবন বহন করবেন বলেও অনুভূতি প্রকাশ করেন। কারণ, মাকে হারানোর পর একটি শিশুর বেড়ে ওঠার পথে তাঁরা যে আশ্রয় ও মমতা দিয়েছেন, তা তাঁর জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত এই পূজার্চনা তাই শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন ছিল না; এটি ছিল এক সন্তানের হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা মায়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও চিরন্তন শ্রদ্ধার প্রকাশ।
জীবন মানুষকে অনেক কিছু শেখায়। সময় মানুষকে অনেক কষ্টের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখায়। কিন্তু মায়ের শূন্যতার সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়া যেন কখনোই সম্ভব নয়। মায়ের মৃত্যুর বহু বছর পরও তাঁর স্মৃতি সন্তানের হৃদয়ে ঠিক ততটাই জীবন্ত থাকে। কখনো কোনো পুরোনো স্মৃতি, কোনো পরিচিত গন্ধ, কোনো স্নেহময় মুহূর্ত কিংবা জীবনের কোনো বিশেষ দিনে সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষটির কথা আরও বেশি করে মনে পড়ে।
এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকারের জীবনেও সেই স্মৃতি আজও অমলিন। শৈশবে হারানো মায়ের জন্য তাঁর হৃদয়ে যে ভালোবাসা জমে আছে, সময়ের ব্যবধান তা মুছে দিতে পারেনি। বরং জীবনের প্রতিটি অর্জন, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মায়ের অনুপস্থিতি তাঁকে নতুন করে অনুভব করিয়ে দেয়—জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদগুলোর একটি হলো মায়ের স্নেহময় উপস্থিতি।
স্বর্গীয়া যোগমায়া সরকার আজ শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি, তাঁর সন্তানকে ঘিরে থাকা মমতার অদৃশ্য বন্ধন এবং তাঁর প্রতি সন্তানের ভালোবাসা আজও অটুট। সেই ভালোবাসাকে হৃদয়ে ধারণ করেই এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার তাঁর মাতৃদেবীর আত্মার শান্তি ও সৎগতি কামনায় এই পূজার্চনা ও প্রসাদের আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাই স্বর্গীয়া যোগমায়া সরকারের বিদেহী আত্মার পরম শান্তি ও সৎগতি কামনা করেন। একই সঙ্গে এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার ও তাঁর পরিবারের সকলের মঙ্গল ও শান্তি কামনা করা হয়।
মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট দিন নেই, কোনো নির্দিষ্ট সময়ও নেই। মা পৃথিবীতে থাকুন কিংবা না থাকুন সন্তানের হৃদয়ে তিনি বেঁচে থাকেন অনন্তকাল। আর সেই অমর স্মৃতির কাছেই বারবার ফিরে আসে সন্তান, নীরবে প্রার্থনা করে— “মা, তুমি যেখানেই থাকো, শান্তিতে থেকো।”