September 3, 2026, 7:41 am
শিরোনাম:
নওগাঁয় পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান, ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার ২ কড়িয়া বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন ৫ তারিখ সিংড়ায় জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরুস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত আখাউড়ায় নবীজি (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে যুবক গ্রেফতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী মহোৎসব শুক্রবারে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, গীতাপাঠ ও আলোচনাসভাসহ ব্যাপক প্রস্তুতি কুমিল্লা নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত।। আতঙ্কে পথচারী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা ভেড়ামারা চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন ওগাঁর পোরশায় ঘুমের মধ্যে সাপের দংশনে রিয়ন নামে সপ্তম শ্রেনীর এক ছাত্রের মৃত্যু !!! নেত্রকোনায় পুকুর দখল করে নির্মিত অনুমোদনহীন অবৈধ দুইতলা ভবন উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু কালিয়াকৈরে প্রতিবন্ধী শিশুদের মূল স্রুতধারায় অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

জমিদারির ঐশ্বর্য ছেড়ে কুড়ের ঘরে সাধনা নয়কোষা জমিদারি ত্যাগী সুফিসাধক সৈয়দ আলাই মিয়া (রহঃ)-এর জীবন ও আধ্যাত্মিক দর্শন

রিপোর্টারের নাম

জমিদারির ঐশ্বর্য ছেড়ে কুড়ের ঘরে সাধনা নয়কোষা জমিদারি ত্যাগী সুফিসাধক সৈয়দ আলাই মিয়া (রহঃ)-এর জীবন ও আধ্যাত্মিক দর্শন

মাহবুব আলম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ):

কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত অষ্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে নয়কোষা জমিদারি ও হাবিলী বাড়ির নাম। সেই জমিদারির বিপুল সম্পদ ও ঐশ্বর্যের উত্তরাধিকার পেয়েও যিনি পার্থিব ভোগ-বিলাসের প্রতি আকৃষ্ট হননি, বরং সবকিছু ছেড়ে আল্লাহর প্রেম ও আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন—তিনি হযরত সৈয়দ আব্দুল করিম আল-হোসাইনী (রহঃ), যিনি মানুষের কাছে সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব নামে অধিক পরিচিত।

তাঁর জীবন ছিল ত্যাগ, সাধনা, মানবপ্রেম ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। জমিদারি হারানোর পর যেখানে অন্য কেউ সম্পদ ফিরে পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন, সেখানে সৈয়দ আলাই মিয়া (রহঃ) জমিদারি ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেয়েও তা গ্রহণ করেননি। বরং তিনি বলেছিলেন— “ত্যাগের ভিতর খোদা প্রাপ্তি হয়, ভোগের ভিতর নয়।”

আজও অষ্টগ্রামের হাবিলী বাড়িতে তাঁর মাজার শরীফকে ঘিরে ভক্ত-মুরিদ ও আশেকানদের আনাগোনা অব্যাহত রয়েছে। প্রতি বছর ২২ মহররম তাঁর ওরস শরীফ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসেন।

১২১৪ বঙ্গাব্দে হবিগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী সুলতানেশী হাবিলীর এক সম্ভ্রান্ত সৈয়দ পরিবারে সৈয়দ আব্দুল করিম আল-হোসাইনী (রহঃ)-এর জন্ম। তাঁর পিতা ছিলেন হযরত সৈয়দ শাহ ছাবের (রহঃ)।
বংশীয় ইতিহাস অনুযায়ী, তিনি সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহঃ)-এর অন্যতম প্রধান সহচর ও সিপাহসালার হযরত সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহঃ)-এর ত্রয়োদশ বংশধর। এই বংশে পরবর্তীকালে বহু জ্ঞানী, গুণী, ওলী-আউলিয়া, কবি, সাহিত্যিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে।

সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব সিলেট শহরে বিদ্যাশিক্ষা লাভ করেন। আরবি, ফার্সি ও উর্দু ভাষায় তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল বলে বিভিন্ন জীবনী ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।
শিক্ষাজীবন থেকেই তাঁর মধ্যে আধ্যাত্মিকতার প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয়। তাঁর বিভিন্ন কারামত ও অলৌকিক ঘটনা নিয়েও স্থানীয়ভাবে বহু জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে।

অষ্টগ্রামের নয়কোষা জমিদারির উত্তরাধিকার
শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে তাঁর নানার বাড়ি ঐতিহাসিক হাবিলী বাড়িতে আসেন। অষ্টগ্রামের এই হাবিলী ছিল তৎকালীন দেওয়ান পরিবারের আবাসস্থল।

ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, জোয়ানশাহী পরগনার ঊনিশ কোষা জমিদারি ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে দুই ভাগে বিভক্ত হয়। এক অংশ পরিচিত হয় দশকোষা এবং অপর অংশ নয়কোষা জমিদারি নামে।

নয়কোষা জমিদারির শেষ দিকের জমিদার ছিলেন চান বিবি। তাঁর একমাত্র কন্যা জিনাত চান বিবির সঙ্গে সুলতানেশী হাবিলীর সৈয়দ শাহ ছাবের (রহঃ)-এর বিবাহ হয়। তাঁদের সন্তানদের মধ্যে সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব ছিলেন অন্যতম।

চান বিবির একমাত্র পুত্র দেওয়ান করম রেজা অবিবাহিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তাঁর দৌহিত্র সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেবের হাতে জমিদারির দায়িত্ব অর্পিত হয়। জমিদারি নিলাম, কিন্তু ফিরে তাকাননি
জমিদারির দায়িত্ব পেলেও সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেবের মন পড়ে থাকত আধ্যাত্মিক সাধনায়। জমিদারি পরিচালনার প্রতি তাঁর অনাগ্রহের কারণে বকেয়া খাজনার দায়ে ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে জমিদারি নিলামে ওঠে।
কিন্তু নিলামে জমিদারি বিক্রি না হওয়ায় ময়মনসিংহের কালেক্টর কর্তৃপক্ষ তাঁকে বকেয়া খাজনা পরিশোধ করে জমিদারি ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেন।

সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। জমিদারির ঝামেলা থেকে আল্লাহ তাঁকে মুক্তি দিয়েছেন—এই বিশ্বাসে তিনি আর পার্থিব সম্পদের দিকে ফিরে তাকাননি।

তাঁর জীবনদর্শনের মূলকথা ছিল—“ভোগে নয়, ত্যাগেই খোদা প্রাপ্তি হয়।”
এরপর তিনি জমিদারির মূল্যবান ইমারত, ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সম্পদের মোহ ত্যাগ করে বাড়ির অদূরে একটি জীর্ণ কুড়ের ঘরে বসবাস শুরু করেন।
কুড়ের ঘরেই আধ্যাত্মিক সাধনা
জমিদারি হারানোর পরও তাঁর জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং তিনি আরও গভীরভাবে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিমগ্ন হন।

তাঁর কুটিরে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করে। কেউ আসতেন দোয়া নিতে, কেউ আধ্যাত্মিক শিক্ষা নিতে, আবার কেউ তাঁর সান্নিধ্যে কিছু সময় কাটানোর জন্য। জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ তাঁর কাছে ছিল না। মুসলমানদের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী বহু মানুষও তাঁর ভক্ত ও অনুরাগী ছিলেন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও লোকজ সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।

সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেবের জীবনদর্শনের অন্যতম প্রধান দিক ছিল মানবপ্রেম। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি তাঁর ছিল গভীর সহানুভূতি।

জমিদারি নিলামের পর তাঁর অবশিষ্ট সম্পদও দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার কথা তাঁর জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর নামে প্রচলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণী—“অন্য ধর্মের লোকের প্রতি যারা বিদ্বেষ পোষণ করে, তারা প্রকৃত ধার্মিক নয়।” এই বক্তব্য তাঁর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক দর্শনের পরিচয় বহন করে।

সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব পাক পাঞ্জাতন ও বিশেষ করে ইমাম হোসাইন (আঃ)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পোষণ করতেন।
কারবালার আত্মত্যাগ, সত্যের পক্ষে অবস্থান এবং জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শিক্ষা তাঁর আধ্যাত্মিক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

কারবালার স্মৃতি জাগ্রত রাখা এবং ইমাম হোসাইন (আঃ)-এর আত্মত্যাগের শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি মহররম শরীফের বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করতেন বলে বর্ণিত আছে।

জারিগান, মর্সিয়া, মাহফিল, মজলিশ, গাস্ত, তাজিয়া মিছিল, ফাতেহা পাঠ ও রোজাসহ বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে তিনি কারবালার ইতিহাস ও আত্মত্যাগের স্মৃতি মানুষের মাঝে জাগ্রত রাখার চেষ্টা করতেন।
তাঁর দর্শনে কারবালা ছিল জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, সত্যের পক্ষে অবস্থান এবং প্রয়োজনে আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণার প্রতীক।

সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব তাঁর তরিকতের কার্যক্রমকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে অনুজ সৈয়দ জালাই মিয়া সাহেবের কনিষ্ঠ পুত্র মাওলানা সৈয়দ আব্দুল হেকীম আল-হোসাইনী (রহঃ)-কে সুলতানেশী থেকে অষ্টগ্রামে নিয়ে আসেন।

তাঁকে তরিকতের শিক্ষা প্রদান করে নিজের স্থলাভিষিক্ত করেন। পরবর্তীকালে তাঁর বংশধররা ধারাবাহিকভাবে এই আধ্যাত্মিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে সংশ্লিষ্ট বংশীয় ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

মাওলানা সৈয়দ আব্দুল হেকীম আল-হোসাইনী (রহঃ)-এর পুত্রদের মধ্যে মাওলানা সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমদ আল-হোসাইনী চিশতী (রহঃ) তরিকতের দায়িত্ব গ্রহণ করে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

সৈয়দ আব্দুল করিম আল-হোসাইনী (রহঃ) ওরফে সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব বাংলা ১৩০৯ সালের ১৮ বৈশাখ, ২২ মহররম ইন্তেকাল করেন। তাঁকে তাঁর নিজ হাবেলীতে দাফন করা হয়।

পরবর্তীকালে ভক্ত-মুরিদ ও আশেকানদের উদ্যোগে তাঁর মাজার শরীফের উন্নয়নকাজ শুরু হয়। দানবীর কাদির বক্স সরকারসহ তাঁর বিভিন্ন মুরিদ ও ভক্ত মাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

পর্যায়ক্রমে মাজারে ছাদ, বারান্দা, টাইলস ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। জিয়ারতকারীদের সুবিধার্থে ঘাটলা, গণশৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজও সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়।

২২ মহররমে ওরস ঘিরে ভক্তদের সমাগম
প্রতি বছর ২২ মহররম সৈয়দ আলাই মিয়া (রহঃ)-এর ওরস শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে অষ্টগ্রামের হাবিলী বাড়ির মাজার শরীফে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্ত, মুরিদ ও আশেকানদের সমাগম ঘটে।
জিয়ারত, দোয়া, ফাতেহা, মাহফিল ও বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করেন অনুসারীরা।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর জীবন ও দর্শনের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি। বরং অষ্টগ্রামের ঐতিহাসিক নয়কোষা জমিদারির স্মৃতি, হাবিলী বাড়ি এবং সৈয়দ আলাই মিয়া (রহঃ)-এর মাজার আজও এই অঞ্চলের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।

একদিকে ছিল জমিদারির বিপুল সম্পদ ও ঐশ্বর্য, অন্যদিকে ছিল আল্লাহর প্রেম ও আধ্যাত্মিক সাধনা। সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব বেছে নিয়েছিলেন দ্বিতীয় পথটি।
তিনি দেখিয়েছেন, সম্পদ ও ক্ষমতা মানুষের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের সাধনাই হতে পারে জীবনের বড় উদ্দেশ্য। নয়কোষা জমিদারির উত্তরাধিকারী হয়েও যিনি জমিদারি আঁকড়ে ধরেননি, বরং জীর্ণ কুড়ের ঘরকে সাধনার ঠিকানা বানিয়েছিলেন—সেই সৈয়দ আব্দুল করিম আল-হোসাইনী (রহঃ) ওরফে সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব আজও তাঁর ভক্তদের কাছে ত্যাগ ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক।

তথ্যসূত্র: সিলেট ইতিহাস ঐতিহ্য—ড. শরীফ উদ্দীন আহমদ; তরফের কথা—অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি; সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহঃ)—ড. এস এম ইলিয়াস; অজানা সুফিদের জানা—ড. এস এম ইলিয়াস; ফোকলোর সংকলন—বাংলা একাডেমি; আমার জীবননীতি, আমার রাজনীতি—রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ; বিশ্বশান্তির প্রয়াসে সৈয়দ আব্দুল করিম (রহঃ) ও সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমদ আল-হোসাইনী চিশতী (রহঃ) সূফীদয়—বাবু দেব প্রদ চক্রবর্তীসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক গ্রন্থ ও বংশীয় সূত্র।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST