সাংবাদিকতার সাফল্য ও মানবিকতার জয়: ওমানে অসহায় সুমি অবশেষে নিজ গৃহে, পরিবারে স্বস্তি
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
সংবাদপত্র যে কেবল খবরের দর্পণ নয়, বরং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ও সামাজিক পরিবর্তনের এক অন্যতম শক্তি—তার আরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো কুড়িগ্রামের রৌমারীতে। ওমানে অসুস্থ অবস্থায় পাষণ্ড স্বামীর ফেলে আসা অসহায় প্রবাসী নারী সুমি আক্তার অবশেষে দেশে ফিরে এসেছেন। গত ২০ জুলাই, ২০২৬ তারিখে ‘জাতীয় দৈনিক অভয়নগর’ পত্রিকায় “ওমানে অসুস্থ স্ত্রীকে ফেলে দেশে ফেরার অভিযোগ, রৌমারীতে পরিবারে আহাজারি” শিরোনামে বিশেষ সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পরেই তা সরকারের নীতি-নির্ধারক ও প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়। ‘জাতীয় দৈনিক অভয়নগর’ ও ‘কালের কণ্ঠ’-এর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদনের ইতিবাচক প্রক্রিয়ায় দ্রুত সাড়া দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২০ আগস্ট, ২০২৬ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে সুমি আক্তারকে ওমান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ওয়েজ আর্নার্স ডেস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে সুমি আক্তারকে তাঁর পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে। ঘটনার পেছনের কথা:
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাইটকামারী গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে সুমি আক্তার। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে একই উপজেলার দক্ষিণ টাপুরচর গ্রামের ছাবের আলীর ছেলে বাবলু মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পরবর্তীতে স্বামীর আহ্বানে ওমানে পাড়ি জমান সুমি। কিন্তু প্রবাসে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপযুক্ত চিকিৎসা না করিয়ে সুমিকে অসহায় ও মুমূর্ষু অবস্থায় সেখানে ফেলে রেখে দেশে ফিরে আসেন স্বামী বাবলু মিয়া এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। মেয়ের জীবন-মৃত্যু নিয়ে ঘোর দুশ্চিন্তায় পড়া পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে গত ২০ জুলাই সংবাদ প্রকাশ করে ‘জাতীয় দৈনিক অভয়নগর’। পরিবারে আনন্দের অশ্রু:
গত ২০ আগস্ট দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সুমি আক্তার দেশের মাটিতে পা রাখলে বিমানবন্দরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ উৎকণ্ঠা শেষে প্রিয় সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমির বাবা সাইদুর রহমান। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “মেয়ে বেঁচে আছে কি না তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ছিলাম। জাতীয় দৈনিক অভয়নগর ও কালের কণ্ঠ সংবাদ প্রকাশ না করলে হয়তো আমি আর কোনোদিন আমার মেয়েকে ফেরত পেতাম না। আমি পত্রিকা কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।” সংবাদপত্রের বস্তুনিষ্ঠ লেখনী এবং প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে একজন প্রবাসীর জীবন রক্ষা ও পরিবারে হাসি ফিরে আসার এই ঘটনাকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।