July 10, 2026, 7:43 pm
শিরোনাম:
ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে নিঃস্ব ১৬০ পরিবার: ‘ত্রাণ চাই না, বাঁচতে স্থায়ী বাঁধ চাই’ ৮ হাজার গাছ কোথায় গেল ??? নেত্রকোনা জেলা সাব-রেজিস্টার অফিসে পিয়ন সেলিমের অবৈদ টাকা লেনদেন ভিডিও ভাইরাল নওগাঁ পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবির বিশেষ অভিযানে ১০ মামলার আসামি ভুয়া ডিবি ‘সুমন’ গ্রেফতার আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সঙ্গে মধ্যরাতের উচ্ছ্বাস আনন্দ ভাগ করে নিলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতিতে নবাগত আইনজীবীদের উষ্ণ সংবর্ধনা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণের আহ্বান নাসিরনগরে সরকারি সিনিয়র নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার. পাবনা ফরিদপুরে ১০ লাখ টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুরিয়ে ধ্বংস এ-আই প্রযুক্তিতে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার, চাঁদা দাবির অভিযোগ একটি ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে নবাগত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজকে উষ্ণ সংবর্ধনায় বরণ করলো কুমিল্লা আইনজীবী সমিতি

ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে নিঃস্ব ১৬০ পরিবার: ‘ত্রাণ চাই না, বাঁচতে স্থায়ী বাঁধ চাই’

রিপোর্টারের নাম

ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে নিঃস্ব ১৬০ পরিবার: ‘ত্রাণ চাই না, বাঁচতে স্থায়ী বাঁধ চাই’

কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

উজানের আগ্রাসী ঢল আর ব্রহ্মপুত্রের অতল গর্ভে প্রতি বছরই বিলীন হয় উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে চোখের পলকে নিঃস্ব হয়ে গেছে ১৬০টি পরিবার। জমিজমা, ভিটেমাটি হারিয়ে এই মানুষগুলো এখন পথের ফকির। খোলা আকাশের নিচে, তপ্ত পিচঢালা রাস্তার ধারে কিংবা অন্যের জমিতে মানবেতর দিন কাটছে তাদের। ক্ষুধার জ্বালার চেয়েও এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে—‘আজকের রাতটা কোথায় কাটবে?’ ১০-১২ বার ভাঙনের ক্ষত: কোথায় থামবে এই বাস্তুচ্যুত জীবন? সরেজমিনে রৌমারীর সুখেরবাতী, ঘুঘুমারী ও খেদাইমারী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় শুধুই হাহাকার। ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষজন তড়িঘড়ি করে নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে সরিয়ে নিচ্ছেন। সুখেরবাতী গ্রামের বাসিন্দা হায়দার আলী (৪০) অশ্রুসজল চোখে বলেন, “নদী এক্কেবারে ঘরের দুয়ারে চইলা আইছে। ঘরডা ভাইঙ্গা সরায়া নিচ্ছি ঠিকই, কিন্তু যামু কই? মাথা গোঁজার তো কোনো জায়গা নাই।” একই চিত্র ঘুঘুমারী এলাকায়। সেখানকার প্রবীণ বাসিন্দা জয়নাল, আফসার ও আব্দুল কাদের জানান, আজ থেকে কয়েক বছর আগেও তাদের মূল বসতভিটা ছিল বর্তমান নদী সীমানা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পশ্চিমে। নদী ভাঙতে ভাঙতে আজ তাদের এই অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে। জীবনের ১০ থেকে ১২ বার ঘর ভেঙে নতুন করে গড়তে হয়েছে তাদের। বারবার সর্বস্ব হারিয়ে আজ তারা পুরোপুরি ঠিকানাহীন ও দিশেহারা। বালুর বস্তায় ‘নয়ছয়’: পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর নদীভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নামমাত্র কিছু বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলে দায় সারে। তীর সংরক্ষণের নামে আসা কোটি কোটি টাকা কার্যত নদীর পানিতেই ভেসে যায়। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের যোগসাজশ ও অনিয়মের কারণেই কোনো স্থায়ী কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। চর শৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান একেএম সাইদুর রহমান দুলাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার স্থায়ীভাবে তীর সংরক্ষণ না করে প্রতি বছর বস্তা ডাম্পিংয়ের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে। এগুলো আসলে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না, শুধু সরকারের টাকা গোচ্ছা যাচ্ছে।” অথচ সঠিক সময়ে পরিকল্পিতভাবে স্থায়ী বাঁধ দিলে আজ এই ১৬০টি পরিবারকে গৃহহীন হতে হতো না। প্রশাসনের আশ্বাস বনাম বাস্তবতা ভাঙন কবলিতদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দিন জানান, ইতিমধ্যে নদীভাঙনের শিকার ৪টি পরিবারকে ঢেউটি (টিন) ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাকি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে, তালিকা পেলেই দ্রুত পুনর্বাসন করা হবে।
অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী রকিবুল হাসান বরাবরের মতোই চিরাচরিত আশ্বাস দিয়ে বলেন, “সুখের বাতি ও ঘুঘুমারী এলাকায় ভাঙন রোধে আপদকালীন বস্তা ফেলা হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত তীর সংরক্ষণের একটি স্থায়ী কাজ করার।” আর কতকাল এই কালক্ষেপণ? ত্রাণের চাল কিংবা গুটিকয়েক টিন দিয়ে নদীভাঙা মানুষের কান্না থামানো যায় না। রৌমারীর মানুষ আজ আর কারও করুণা বা ত্রাণ চায় না; তারা চায় তাদের অধিকার—একটি স্থায়ী ও মজবুত বাঁধ। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বালুর বস্তা ফেলে সরকারের অর্থ অপচয় না করে, এখনই সময় রৌমারীকে রক্ষায় মহাপরিকল্পনা নেওয়ার। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আকুল আবেদন—আর কোনো বাহানা বা অনিয়ম নয়, অবিলম্বে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করে এই সহায়-সম্বলহীন মানুষগুলোর অস্তিত্ব রক্ষা করুন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST