October 18, 2026, 11:56 pm
শিরোনাম:
বিজয়নগরে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগে বিল্লাল মেম্বারের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা। সাংবাদিককে হেনস্তা, মানহানিকর প্রচার ও ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি। বরুড়ার মহেশপুর রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শনে জেলা ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ চাটমোহরে সন্ধানী যুব সমিতির আওয়ামী লীগপন্থী কমিটি বাতিল ও অনিয়ম তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন। রুড়ার মহেশপুর রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শনে জেলা ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ অষ্টগ্রামে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে কিশোরগঞ্জ -৪ আসনের সাংসদ এডভোকেট ফজলুর রহমান জামালপুরে উৎসব ও সম্প্রীতিতে পালিত হোক দুর্গাপূজা, সোহেল রানা খান সিরাজগঞ্জে ৫৫১ পূজামণ্ডপে জেলা পরিষদের অনুদানের চেক বিতরণ কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, কাজ করছে ৬ ইউনিট সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু

ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে নিঃস্ব ১৬০ পরিবার: ‘ত্রাণ চাই না, বাঁচতে স্থায়ী বাঁধ চাই’

রিপোর্টারের নাম

ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে নিঃস্ব ১৬০ পরিবার: ‘ত্রাণ চাই না, বাঁচতে স্থায়ী বাঁধ চাই’

কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

উজানের আগ্রাসী ঢল আর ব্রহ্মপুত্রের অতল গর্ভে প্রতি বছরই বিলীন হয় উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে চোখের পলকে নিঃস্ব হয়ে গেছে ১৬০টি পরিবার। জমিজমা, ভিটেমাটি হারিয়ে এই মানুষগুলো এখন পথের ফকির। খোলা আকাশের নিচে, তপ্ত পিচঢালা রাস্তার ধারে কিংবা অন্যের জমিতে মানবেতর দিন কাটছে তাদের। ক্ষুধার জ্বালার চেয়েও এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে—‘আজকের রাতটা কোথায় কাটবে?’ ১০-১২ বার ভাঙনের ক্ষত: কোথায় থামবে এই বাস্তুচ্যুত জীবন? সরেজমিনে রৌমারীর সুখেরবাতী, ঘুঘুমারী ও খেদাইমারী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় শুধুই হাহাকার। ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষজন তড়িঘড়ি করে নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে সরিয়ে নিচ্ছেন। সুখেরবাতী গ্রামের বাসিন্দা হায়দার আলী (৪০) অশ্রুসজল চোখে বলেন, “নদী এক্কেবারে ঘরের দুয়ারে চইলা আইছে। ঘরডা ভাইঙ্গা সরায়া নিচ্ছি ঠিকই, কিন্তু যামু কই? মাথা গোঁজার তো কোনো জায়গা নাই।” একই চিত্র ঘুঘুমারী এলাকায়। সেখানকার প্রবীণ বাসিন্দা জয়নাল, আফসার ও আব্দুল কাদের জানান, আজ থেকে কয়েক বছর আগেও তাদের মূল বসতভিটা ছিল বর্তমান নদী সীমানা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পশ্চিমে। নদী ভাঙতে ভাঙতে আজ তাদের এই অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে। জীবনের ১০ থেকে ১২ বার ঘর ভেঙে নতুন করে গড়তে হয়েছে তাদের। বারবার সর্বস্ব হারিয়ে আজ তারা পুরোপুরি ঠিকানাহীন ও দিশেহারা। বালুর বস্তায় ‘নয়ছয়’: পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর নদীভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নামমাত্র কিছু বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলে দায় সারে। তীর সংরক্ষণের নামে আসা কোটি কোটি টাকা কার্যত নদীর পানিতেই ভেসে যায়। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের যোগসাজশ ও অনিয়মের কারণেই কোনো স্থায়ী কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। চর শৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান একেএম সাইদুর রহমান দুলাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার স্থায়ীভাবে তীর সংরক্ষণ না করে প্রতি বছর বস্তা ডাম্পিংয়ের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে। এগুলো আসলে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না, শুধু সরকারের টাকা গোচ্ছা যাচ্ছে।” অথচ সঠিক সময়ে পরিকল্পিতভাবে স্থায়ী বাঁধ দিলে আজ এই ১৬০টি পরিবারকে গৃহহীন হতে হতো না। প্রশাসনের আশ্বাস বনাম বাস্তবতা ভাঙন কবলিতদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দিন জানান, ইতিমধ্যে নদীভাঙনের শিকার ৪টি পরিবারকে ঢেউটি (টিন) ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাকি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে, তালিকা পেলেই দ্রুত পুনর্বাসন করা হবে।
অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী রকিবুল হাসান বরাবরের মতোই চিরাচরিত আশ্বাস দিয়ে বলেন, “সুখের বাতি ও ঘুঘুমারী এলাকায় ভাঙন রোধে আপদকালীন বস্তা ফেলা হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত তীর সংরক্ষণের একটি স্থায়ী কাজ করার।” আর কতকাল এই কালক্ষেপণ? ত্রাণের চাল কিংবা গুটিকয়েক টিন দিয়ে নদীভাঙা মানুষের কান্না থামানো যায় না। রৌমারীর মানুষ আজ আর কারও করুণা বা ত্রাণ চায় না; তারা চায় তাদের অধিকার—একটি স্থায়ী ও মজবুত বাঁধ। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বালুর বস্তা ফেলে সরকারের অর্থ অপচয় না করে, এখনই সময় রৌমারীকে রক্ষায় মহাপরিকল্পনা নেওয়ার। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আকুল আবেদন—আর কোনো বাহানা বা অনিয়ম নয়, অবিলম্বে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করে এই সহায়-সম্বলহীন মানুষগুলোর অস্তিত্ব রক্ষা করুন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST