কুমিল্লা ধর্মসাগর পাড়ে সুর, সৌহার্দ্য আর সকালের নাস্তার মিলনমেলা
সুপ্রভাত মঞ্চ ও কুমিল্লা কাফেলা সদস্যদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ
তাপস চন্দ্র সরকার, নিজস্ব প্রতিবেদক।।কুমিল্লা নগরীর ঐতিহ্যবাহী ধর্মসাগর পাড়ে শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) সকালটি যেন ছিল সুর, সৌহার্দ্য, আন্তরিকতা ও মিলনের এক অনন্য আয়োজন। নির্মল সকালের পরিবেশ, মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা এবং আন্তরিক আড্ডার মধ্য দিয়ে সুপ্রভাত মঞ্চের নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন নতুন মাত্রা পায়। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল আন্তরিক আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে পরিবেশিত সুস্বাদু সকালের নাস্তা, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত ও স্মরণীয় করে তোলে।
ধর্মসাগর পাড়ের সুপ্রভাত মঞ্চে অনুষ্ঠিত এ নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সংগঠনের মুখপাত্র। ভোরের কোমল আলো, ধর্মসাগরের মনোরম পরিবেশ এবং সংগীতের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। উপস্থিত দর্শক ও অংশগ্রহণকারীরা সংগীত পরিবেশনা উপভোগের পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময়ে অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শেষে সবাই একসঙ্গে কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পাড়ে অবস্থিত হামসাফার রেস্টুরেন্টে সকালের নাস্তা করেন। নাস্তার আয়োজনে ছিল পরোটা, নানরুটি, মুগ ও ছনার ডাল ভাজি, সবজি, ডিম ভাজি এবং গরম চা। সুস্বাদু ও পরিপাটি এ নাস্তা উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আন্তরিকতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
এ আয়োজনে সুপ্রভাত মঞ্চের কর্ণধার অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসীর নেতৃত্বে মোট ১৩ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কুমিল্লা কাফেলা’র মো. জাহাঙ্গীর আলম হাজারীর নেতৃত্বে আরও চারজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল ও উৎসবমুখর।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ব্যস্ত নাগরিক জীবনে এমন নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন মানুষের মনকে প্রফুল্ল রাখার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব ও সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে। সংগীত, আড্ডা এবং একসঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করার মাধ্যমে মানবিক সম্পর্ক আরও গভীর হয় বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, সুপ্রভাত মঞ্চ শুধু একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়; এটি মানুষের হৃদয়ের বন্ধন, সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা এবং সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম। প্রতি সপ্তাহের এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া, সংস্কৃতিচর্চাকে উৎসাহিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
ধর্মসাগরের নির্মল পরিবেশে সংগীতের সুর, প্রাণখোলা আড্ডা এবং আন্তরিক আপ্যায়নের এ সকাল উপস্থিত সবার মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।