May 10, 2026, 12:01 pm
শিরোনাম:
বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভয়াবহ ফাটল, ঝুঁকিতে ২৫ হাজার মানুষের জনপদ কুষ্টিয়ার সীমান্তে মাইকিং করে বিজিবির সতর্কতা জারি লালপুরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিং চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার, ৯ মোবাইলসহ সাইবার প্রতারণা মামলা দায়ের সন্তানদের জীবন বাঁচাতে বাবা-মায়ের অমর ত্যাগ বীরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। বিক্রেতা বা খোর যেই হোক নিস্তার নেই ফরিদপুর সোনার দোকানে চুরি করে পালানোর সময় ৩ চোর আটক বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার ৩য় দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ১৫ মে নাটোর জেলার লালপুর থানা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক এক নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ইমাম গ্রেফতার লালপুর থানার এএসআই নাহিদ হাসানের অসাধারণ সাফল্য: মাত্র নয় দিনে পাঁচটি হারানো ফোন উদ্ধার

সন্তানদের জীবন বাঁচাতে বাবা-মায়ের অমর ত্যাগ

রিপোর্টারের নাম

সন্তানদের জীবন বাঁচাতে বাবা-মায়ের অমর ত্যাগ

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ যখন নিজের প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত থাকে, তখন এক দম্পতি নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের নতুন জীবন দান করলেন। ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাধানগর গ্রামের
গ্রামে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ও বীরত্বপূর্ণ ঘটনাটি এখন সারা দেশের মানুষের চোখে অশ্রু এনে দিয়েছে।
শনিবার রাত তখন ১টা। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন পুরো গ্রাম। হঠাৎ সালাম শিকদারের বসতবাড়িতে আগুনের লেলিহান শিখা আকাশ ছুঁয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তাপে এবং ধোঁয়ায় যখন দম বন্ধ হয়ে আসছিল, তখন ঘরের ভেতরে পাঁচজন সদস্য আটকা পড়েন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনের ভয়াবহতার সময় ঘরের প্রধান দরজাটি বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। মৃত্যুকূপ হয়ে ওঠা সেই ঘর থেকে ২ সন্তান ও ১ নাতিকে বাঁচানোর জন্য জান প্রাণ দিয়ে লড়েছেন সালাম শিকদার ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগম।
যখন পালানোর কোনো পথ ছিল না, তখন সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম নিজেদের পোড়া শরীরের যন্ত্রণা উপেক্ষা করে জানালার গ্রিল বা কাঠামো ভেঙে মরণপণ লড়াই চালান। তাঁরা একে একে তাঁদের দুই মেয়ে এবং আদরের নাতিকে সেই ভাঙা জানালা দিয়ে বাইরে ঠেলে বের করে দেন।
সন্তানদের নিরাপদ স্থানে পাঠিয়েও নিজেরা আর বের হতে পারেননি। আগুনের প্রচণ্ড শিখা তাঁদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। সন্তানদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে তাঁরা নিজেরা সেই আগুনেই ভস্মীভূত হন। ঘটনাস্থলেই চিরদিনের জন্য চোখ বন্ধ করেন এই ত্যাগী দম্পতি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। ঘরটিও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। খবর পেয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি, এতিম শিশুদের লেখাপড়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।
দোহার থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি কোনো পরিকল্পিত নাশকতা, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাধানগর গ্রামজুড়ে এখন শুধু কান্নার রোল। এলাকাবাসী বলছেন, বাবা-মায়ের এই আত্মত্যাগের উদাহরণ বিরল। সন্তানদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে তাঁরা যে বীরত্ব দেখিয়েছেন, তা মানুষের মুখে। মুখে ফিরছে। শোকাচ্ছন্ন গ্রামবাসী এই বীরত্বপূর্ণ অথচ অত্যন্ত বেদনাদায়ক মৃত্যুতে আজ বাকরুদ্ধ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST