August 10, 2026, 3:57 pm
শিরোনাম:
বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছেন, কিন্তু সেই সুখের মুহূর্ত দেখাতে পারেননি বাবাকে—কুমিল্লা আদালত অঙ্গনের পরিচিত মুখ অ্যাড. তাপস চন্দ্র সরকার ভেদভেদীতে পাহাড় ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার পরিবারের মাঝে জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা কুমিল্লা ছাতিপট্টি নৃসিংহ মন্দিরে কাল থেকে ৩ দিনব্যাপী হরিকথা মহোৎসব হেফাজতের অন্যায্য দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হেযবুত তওহীদের আখাউড়ায় ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেফতার রামপালে সাংবাদিকদের সাথে ওয়ার্ল্ড ভিশন রামপাল কো অর্ডিনেশনের মতবিনিময় সভা আশুগঞ্জে স্কাফ সিরাপ ও গাঁজাসহ পিকআপ-প্রাইভেটকার উদ্ধার, গ্রেফতার ২. আমতলীতে স্কুলছাত্র ইমন হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ কালিয়াকৈরে পৌর যুবদলের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান আশুগঞ্জে সিএনজিতে বিদেশি সিগারেট উদ্ধার, ৩ চোরাকারবারী গ্রেফতার

বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছেন, কিন্তু সেই সুখের মুহূর্ত দেখাতে পারেননি বাবাকে—কুমিল্লা আদালত অঙ্গনের পরিচিত মুখ অ্যাড. তাপস চন্দ্র সরকার

রিপোর্টারের নাম

বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছেন, কিন্তু সেই সুখের মুহূর্ত দেখাতে পারেননি বাবাকে—কুমিল্লা আদালত অঙ্গনের পরিচিত মুখ অ্যাড. তাপস চন্দ্র সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কিছু মানুষের জীবন কেবল জীবনের গল্প নয়, হয়ে ওঠে সংগ্রামের এক জীবন্ত উপাখ্যান। কিছু মানুষ নিজের জন্য স্বপ্ন দেখেন, আর কিছু মানুষ প্রিয়জনের স্বপ্নকে নিজের জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে পথ চলেন। অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকারের জীবন যেন তেমনই এক গল্প—শৈশবে মাকে হারানোর বেদনা, জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই, বাবার স্বপ্নকে হৃদয়ে ধারণ করে পথচলা এবং শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ; কিন্তু সবচেয়ে বড় আফসোস, যে বাবা তাঁকে আইনজীবী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন, সেই বাবা সন্তানের সাফল্যের মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি।

পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ জন্মগ্রহণ করেন, যাদের পরিচয়ের জন্য আলাদা করে কিছু বলার প্রয়োজন হয় না। কর্মই তাদের পরিচয় হয়ে ওঠে, মানুষের ভালোবাসাই হয়ে ওঠে তাদের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। কুমিল্লা আদালত অঙ্গনে অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার তেমনই একটি পরিচিত নাম। আইন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবেও তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। মানুষের কথা বলা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজে একটি অবস্থান তৈরি করার নিরন্তর চেষ্টা তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে স্পষ্ট।

১৯৮০ সালের ৫ এপ্রিল পিতা নিখিল চন্দ্র সরকার ও মাতা যোগমায়া সরকারের ঘর আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার লামচরী উকিল বাড়ী তাঁর পৈত্রিক বসতভিটা। কিন্তু জীবন শুরু থেকেই তাঁর জন্য সহজ ছিল না। ছোটবেলাতেই হারিয়েছেন মাকে। যে বয়সে একজন শিশুর মায়ের আঁচলের নিরাপত্তায় বড় হওয়ার কথা, সেই বয়সেই তাঁকে পরিচিত হতে হয়েছে মাতৃহীনতার শূন্যতার সঙ্গে। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন তিনি। শৈশবের সেই কষ্ট তাঁকে ভেঙে দেয়নি; বরং জীবনকে বুঝতে শিখিয়েছে, মানুষের কষ্টকে অনুভব করতে শিখিয়েছে এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছাকে আরও শক্ত করেছে।

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও চঞ্চল স্বভাবের ছিলেন তাপস চন্দ্র সরকার। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তাঁর মধ্যে ছিল কিছু একটা করে দেখানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা। জীবনের প্রতিটি ধাপে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। আর তাঁর এই পথচলায় সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিলেন তাঁর বাবা নিখিল চন্দ্র সরকার।

নিখিল চন্দ্র সরকার ছিলেন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির একজন সিনিয়র সদস্য। তিনি স্বপ্ন দেখতেন, তাঁর সন্তান একদিন আইনজীবী হবে। হয়তো বাবার সেই স্বপ্নই একদিন তাপস চন্দ্র সরকারের হৃদয়ে গভীরভাবে জায়গা করে নেয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই তিনি চলে যান না-ফেরার দেশে।

২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি নিখিল চন্দ্র সরকার ইহলোকের মায়ামমতা ত্যাগ করে পরলোকগমন করেন। বাবার চলে যাওয়ার পর তাঁর রেখে যাওয়া স্বপ্নটাই যেন হয়ে ওঠে তাপস চন্দ্র সরকারের পথচলার শক্তি। একজন বাবা তাঁর সন্তানকে যে জায়গায় দেখতে চেয়েছিলেন, সেই জায়গায় পৌঁছানোর জন্য আরও দৃঢ় হয়ে এগিয়ে যান তিনি। অবশেষে স্রষ্টার কৃপায় পূরণ হয় বাবার স্বপ্ন। তাপস চন্দ্র সরকার আইনজীবী হন। কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্তে পাশে ছিলেন না তাঁর বাবা।

এই জায়গাটিই হয়তো তাঁর জীবনের সবচেয়ে গভীর বেদনা। যে বাবা হয়তো একদিন গর্ব করে বলতেন, “আমার ছেলে আইনজীবী হয়েছে”—সেই কথাটি আর বলা হয়নি। যে চোখে ছেলে আইনজীবীর পোশাকে আদালতে দাঁড়ানোর দৃশ্য দেখার কথা ছিল, সেই চোখ দুটি তখন চিরতরে বন্ধ। সন্তান বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছেন, কিন্তু সেই পূরণের আনন্দ বাবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাননি। জীবনের সাফল্যের সবচেয়ে বড় মুহূর্তেও তাই কোথাও যেন একটি শূন্যতা রয়ে গেছে।

তাপস চন্দ্র সরকারের শিক্ষাজীবনও ছিল সাফল্যমণ্ডিত। ১৯৯৫ সালে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলাধীন ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। ১৯৯৭ সালে কুমিল্লা অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর ২০০০ সালে নিমসার জুনাব আলী ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে কুমিল্লা আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করে নিজেকে আইন পেশার জন্য প্রস্তুত করেন।

তবে আইনজীবী হওয়ার পথটি তাঁর জন্য একদিনে তৈরি হয়নি। আদালতের বাস্তব পরিবেশ, মামলার কার্যক্রম এবং আইনের ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য দীর্ঘ সময় সিনিয়র আইনজীবীদের সান্নিধ্যে কাজ করেছেন তিনি। কুমিল্লার সাবেক জেলা পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান লিটনের সেরেস্তায় প্রায় ৩ থেকে ৫ বছর জুনিয়র হিসেবে কাজ করে ফৌজদারি মামলার বিভিন্ন দিক আয়ত্ত করেন। পরবর্তীতে কুমিল্লা বারের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ নূরুল আমিন ভূইয়ার সেরেস্তায় জুনিয়র হিসেবে কাজ করে দেওয়ানি মামলার বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই দীর্ঘ শিক্ষানবিশ সময় তাঁকে আদালতের বাস্তবতা বুঝতে এবং একজন দক্ষ আইনজীবী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০১৬ সালের ১৪ মে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদপ্রাপ্ত হন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। একই বছরের ৯ জুন তিনি কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদান করেন। এরপর থেকে কুমিল্লা আদালত অঙ্গনে নিয়মিতভাবে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজের কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন একটি পরিচিত অবস্থান।

তবে আইনজীবী পরিচয় পাওয়ার আগেই তাঁর আরেকটি পরিচয় তৈরি হয়েছিল—তিনি ছিলেন একজন গণমাধ্যমকর্মী। আইন পেশায় আসার আগে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। সংবাদ সংগ্রহ, মানুষের কথা শোনা, মানুষের সমস্যা তুলে ধরা এবং সমাজের নানা অসঙ্গতি গণমাধ্যমে প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা অঙ্গনে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন। সাংবাদিকতার সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে আইনজীবী হিসেবেও তাঁকে অনেকটা এগিয়ে দেয়। কারণ একজন সাংবাদিক যেমন ঘটনার গভীরে গিয়ে সত্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন, তেমনি একজন আইনজীবীকেও একটি মামলার প্রতিটি দিক গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হয়। মানুষের কথা শোনার অভ্যাস, তথ্য বিশ্লেষণের দক্ষতা এবং যুক্তির মাধ্যমে বিষয় উপস্থাপনের অভিজ্ঞতা তাঁর আইন পেশার পথচলাকে সমৃদ্ধ করেছে।

পৈত্রিক নিবাস চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার লামচরী উকিল বাড়ী হলেও দীর্ঘদিন ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে কুমিল্লার কালিয়াজুরীতে বসবাস করছেন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। কুমিল্লার মাটি, মানুষ ও আদালত অঙ্গনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তাঁকে এই শহরেরই একজন করে তুলেছে। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা এবং সমাজের জন্য নিজের অবস্থান থেকে কিছু করার চেষ্টা তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর জীবনসঙ্গিনী রিতা রাণী মজুমদারও একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিবারকে আগলে রেখেছেন। ব্যস্ত কর্মজীবনের পাশাপাশি পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে তাঁর স্বপ্নও অনেক। তাঁর শ্বশুরালয় কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার ডুমুরিয়া মজুমদার বাড়ী।

তাপস চন্দ্র সরকারের জীবনকে যদি এক কথায় বলতে হয়, তবে তা হলো—‘হার না মানা এক মানুষের গল্প’। ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছেন, পরবর্তীতে হারিয়েছেন বাবাকে; কিন্তু হারিয়ে যাননি নিজে। জীবনের প্রতিটি আঘাত তাঁকে আরও শক্ত করেছে। অভাব, বেদনা, প্রতিকূলতা কিংবা প্রিয়জন হারানোর শূন্যতা—কোনোটিই তাঁর পথচলা থামাতে পারেনি।

একজন সন্তানের জীবনে বাবা-মায়ের স্বপ্নের চেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আর কী হতে পারে? তাপস চন্দ্র সরকার সেই প্রশ্নের উত্তর নিজের জীবন দিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বাবা চেয়েছিলেন সন্তান আইনজীবী হবে। সেই স্বপ্নকে নিজের স্বপ্নে পরিণত করে তিনি এগিয়ে গেছেন। দীর্ঘ প্রস্তুতি, পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মত্যাগের পর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

কিন্তু সাফল্যের এই গল্পের পাতায় একটি অশ্রুসিক্ত অধ্যায়ও রয়েছে। তাপস চন্দ্র সরকার আজ আইনজীবী, কুমিল্লা আদালত অঙ্গনে পরিচিত মুখ, গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে পরিচিত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত—কিন্তু এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় সাক্ষী হওয়ার কথা ছিল তাঁর বাবা। তিনি নেই। তাই হয়তো আদালতের ব্যস্ততার মাঝেও কোনো কোনো মুহূর্তে ছেলের মনে পড়ে যায় সেই মানুষটির কথা, যিনি একদিন তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন।

হয়তো কোনো এক নির্জন রাতে বাবার কথা মনে পড়ে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—“বাবা, তুমি যদি আজ বেঁচে থাকতে, আমাকে আইনজীবীর পোশাকে দেখে কতটা খুশি হতে?” এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। কারণ বাবা আজ পৃথিবীর অন্য প্রান্তে। কিন্তু বাবার স্বপ্নের উত্তর হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর সন্তান।

সময়ের সঙ্গে মানুষের শরীর পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, কিন্তু মানুষের স্বপ্ন, ভালোবাসা ও আদর্শ থেকে যায়। নিখিল চন্দ্র সরকার হয়তো আজ পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন বেঁচে আছে তাঁর সন্তানের কর্মে। আদালতের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মামলা, প্রতিটি সাফল্য যেন বাবার সেই স্বপ্নেরই একটি করে অধ্যায়।

অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকারের গল্প তাই শুধু একজন আইনজীবীর পেশাগত জীবনের গল্প নয়। এটি একজন মায়ের স্নেহহারা শিশুর বড় হয়ে ওঠার গল্প, একজন বাবার স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়া এক সন্তানের গল্প, এটি হারানোর বেদনা পেরিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার গল্প। এটি প্রমাণ করে—মানুষ চলে যায়, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া স্বপ্ন যদি কোনো প্রিয় মানুষ হৃদয়ে ধারণ করে, তবে সেই স্বপ্ন একদিন না একদিন ঠিকই পূরণ হয়।

আজ কুমিল্লা আদালত অঙ্গনে যখন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকারের নাম উচ্চারিত হয়, তখন তার পেছনে শুধু একজন আইনজীবীর পরিচয় নয়; লুকিয়ে থাকে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। লুকিয়ে থাকে মায়ের শূন্যতা, বাবার স্বপ্ন, নিজের অদম্য চেষ্টা এবং না-হারার মানসিকতা। তাঁর জীবনের প্রতিটি অর্জন যেন নিঃশব্দে বলে যায়—“বাবা, তোমার স্বপ্ন আমি পূরণ করেছি।”

হয়তো ওপারের কোনো এক অদৃশ্য জগৎ থেকে বাবা আজ সন্তানের দিকে তাকিয়ে আছেন। হয়তো গর্ব করে বলছেন—“আমার ছেলে পেরেছে।” আর এই একটি অনুভূতিই হয়তো একজন সন্তানের সারাজীবনের অর্জনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার তাই শুধু কুমিল্লা আদালত অঙ্গনের একটি পরিচিত নাম নন; তিনি একজন স্বপ্নবাহী সন্তান, একজন সংগ্রামী মানুষ এবং এক বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করা এক জীবন্ত গল্প।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST