নাসিরনগরে গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার, স্বামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা।
শফিকুর রহমান শাহীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নিখোঁজের চার দিন পর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে রত্না দাস (৩০) নামে এক গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটির শরীরে পাথরভর্তি বস্তা জড়ানো ও গলায় গামছা ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য রব মিয়া। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শ্রীনিবাস দাস বাদী হয়ে তাঁর ভগ্নিপতি সুশীল দাসসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রত্না দাস খাগালিয়া গ্রামের কুড়েরহাটির সুশীল দাসের স্ত্রী। তিনি সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের মহনলাল দাসের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর শনিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রত্না দাস। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে পরদিন ১৮ অক্টোবর নাসিরনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর স্বামী সুশীল দাস।
বুধবার বিকেলে স্থানীয় লোকজন বাড়ির পাশের পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে এসে স্বজনেরা মরদেহটি রত্না দাসের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের মামা বিনোদ দাস এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী সুশীল দাসের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। খাগালিয়া গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য রব মিয়া জানান, সুশীল দাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি চায়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। মরদেহটির হাত-পা বাঁধা, শরীরে পাথরভর্তি বস্তা জড়ানো এবং গলায় গামছা ছিল বলে তিনি জানান।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, মরদেহটি পুকুরের পানির নিচে একটি খুঁটির সঙ্গে আটকানো ছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। পরে মরদেহটি ফুলে পানির ওপরে ভেসে ওঠে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুবেল মিয়া জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শ্রীনিবাস দাস বাদী হয়ে নিহতের স্বামীসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
প্রতিবেদক: শফিকুর রহমান শাহীন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া। 01717490756