কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যার দায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক।। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যার দায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লার শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হান্নান এ রায় দেন।
মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ময়নাল হোসেন কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। রায় ঘোষণাকালে দণ্ড প্রাপ্ত আসামি আদালত কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানাযায়- ২০২১ সালের ২০ মে বুড়িচংয়ের ভারেল্লা গ্রামের মৃত খোরশেদ আলম এর ছেলে ময়নাল হোসেন বাদীনির শিশু কন্যা উম্মে হাবীবা মীম (৭) কে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে পলিথিনে মুড়িয়ে টয়লেটের ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন।
এ ঘটনায় বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা গ্রামের মোঃ শরীফ উদ্দিনের স্ত্রী ও নিহতের মা পারভিন আক্তার ওরফে শারমিন বাদী হয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোঃ ময়নাল হোসেন ও মোঃ আঃ কাইয়ুমসহ অজ্ঞাতনামা ১/২জনকে আসামি করে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনক্রমে আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করিলে মামলাটি বিচারে আসিলে চার্জগঠন শেষে রাষ্ট্রপক্ষে ১৭জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানি অন্তে আসামি মোঃ ময়নাল হোসেনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সং/০৩) ২০০০ এর ৯ (৩) ধারায় আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দোষী সাব্যস্তক্রমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং দঃ বিঃ আইনের ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থ দণ্ডে দন্ডিত করেন বিজ্ঞ আদালত।
এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষে নিযুক্তীয় এডভোকেট বদিউল আলম সুজন বলেন, ২০২১ সালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ময়নাল হোসেন বাদীনির শিশু কন্যাকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে পলিথিনে মুড়িয়ে টয়লেটের ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন। আমি আশা করছি অতি দ্রুতই রায় বাস্তবায়ন করা হবে।