পীরগঞ্জে নগরপিতা নির্বাচনে নয়টি মুখের মাঝে একজনকে বেছে নিতে হবে পৌরবাসীকে।
সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ,ঠাকুরগাঁও
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। তবে সরকারের বিভিন্ন সূত্র এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন শুরু হতে পারে। আর এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদকে ঘিরে শুরু হয়েছে আগাম রাজনৈতিক তৎপরতা।
নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মাঠে নেমেছেন। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। কেউ কেউ ক্যালেন্ডার সংবলিত লিফলেট বিতরণ করেছেন, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে অন্তত নয়জন সম্ভাব্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বিএনপির নেতাদের মধ্যে। দলটির অন্তত ছয়জন নেতা মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েল, পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম রাজা, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান চৌধুরী মানু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি নজমুল হুদা মিঠু এবং পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর জ্জামান আতিক।
এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আলমগীর কবির জুয়েল সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টের আইনজীবী আবু সায়েম এবং ৬ নম্বর পীরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম।
জামায়াতে ইসলামীও নির্বাচনে অংশ নিতে পারে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে দলটির প্রার্থী কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমির বাবুল আহম্মেদ।
পৌর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “অনেক দিন ধরেই পৌরসভার নাগরিক সেবার মান নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এবার ভোটাররা ব্যক্তি পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতা ও কাজের সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেবেন বলে মনে করি।”
কলেজ শিক্ষক মো. শাহিনুর রহমান বলেন, “একাধিক রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী থাকায় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নাগরিক সমস্যা সমাধানের রূপরেখা ভোটারদের সামনে তুলে ধরা জরুরি।”
পৌর এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী রোকসানা বেগম বলেন, “পানি নিষ্কাশন, রাস্তা সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন সমস্যা দীর্ঘদিনের। আমরা এমন একজন মেয়র চাই, যিনি নির্বাচনের পরও মানুষের পাশে থাকবেন।”
তরুণ ভোটার সাদমান ইসলাম বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক প্রচারণা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু তরুণরা এখন শুধু পোস্টার বা ব্যানারে প্রভাবিত হয় না। তারা দেখতে চায় প্রার্থীর সততা, নেতৃত্বগুণ এবং বাস্তব কাজের পরিকল্পনা।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তফসিল ঘোষণার আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়তে বা কমতে পারে। বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা করলে সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদকে ঘিরে যে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা ইতোমধ্যেই ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
সব মিলিয়ে, পীরগঞ্জ পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা—সবকিছু মিলিয়ে একটি জমজমাট নির্বাচনী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। শেষ পর্যন্ত নয়টি সম্ভাব্য মুখের মধ্য থেকে কাকে নগরপিতার দায়িত্বে দেখতে চান পৌরবাসী, সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে পীরগঞ্জ পৌরসভার আগামী দিনের নেতৃত্ব ও উন্নয়নের গতিপথ।