সীমান্তের স্বাস্থ্যসেবায় ডা. সামাদ স্যারের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া এক রৌমারী
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
সীমান্তঘেঁষা চরাঞ্চল আর ব্রহ্মপুত্র-জিনজিরাম নদীবেষ্টিত ভূখণ্ড কুড়িগ্রামের রৌমারী। এখানকার খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কেবল কোনো চিকিৎসার স্থান নয়, জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে বেঁচে থাকার প্রধান আশ্রয়স্থল। দীর্ঘকাল ধরে দেশের প্রান্তিক হাসপাতালগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যেসব আক্ষেপ ও হতাশা জমে ছিল, সেগুলোকে দূর করে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আজ এক নতুন ভোরের বার্তা দিচ্ছে। সততা, নেতৃত্ব আর নিখাদ সদিচ্ছা থাকলে যে একটি সরকারি হাসপাতালের চিরাচরিত রূপ রাতারাতি বদলে দেওয়া সম্ভব, তা আজ এখানে প্রতীয়মান। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পা রাখলেই এখন চোখে পড়ে এক পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ। যে আঙিনা ও বারান্দা একসময় অযত্ন, নোংরা পরিবেশ আর দুর্গন্ধের আড়ালে ঢেকে থাকত, সেখানে আজ শৃঙ্খলার ছোঁয়া। দালানের আশপাশে আগে যে পানের পিক, ময়লা-আবর্জনা আর মশার উপদ্রব ছিল, তা আজ অতীত। বেডে শুয়ে থাকা রোগী আসমা সিদ্দিকা কিংবা চিকিৎসা নিতে আসা তরুণ আরিফুলের মতো অগণিত মানুষের তৃপ্তির হাসিই বলে দেয় এই পরিবর্তনের বাস্তব রূপ। স্বস্তিদায়ক পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পেয়ে সাধারণ মানুষ আজ নতুন করে আস্থা পাচ্ছেন সরকারি ব্যবস্থার ওপর।
এই ইতিবাচক রূপান্তরের মূল কারিগর রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সামাদ। একজন দূরদর্শী নেতা কীভাবে কেবল প্রশাসনিক চিয়ারে আবদ্ধ না থেকে সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারেন, তিনি তার বাস্তব উদাহরণ। যোগদানের পর থেকেই তিনি নিজে মাঠে নেমেছেন—ভোরে কিংবা কাজের ফাঁকে সরেজমিনে তদারকি করছেন ওয়ার্ড থেকে শুরু করে হাসপাতালের প্রতিটি কোনায়। তাঁর এই উপস্থিতি হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি করেছে এক অভূতপূর্ব দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্ব। limited resource বা সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহার করে কীভাবে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা যায়, তিনি তা দেখিয়ে দিয়েছেন। যেকোনো উদ্যোগের শুরুটা কঠিন হলেও তা টিকিয়ে রাখা আরও বড় পরীক্ষা। রৌমারীর মানুষের প্রত্যাশা—ডা. সামাদ স্যারের শুরু করা এই তদারকি ও সেবার ধারা যেন অব্যাহত থাকে। তাঁর এই নিষ্ঠা ও মানবসেবার মনোভাব শুধু রৌমারী নয়, পুরো বাংলাদেশের প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। চিকিৎসাসেবার এই নবালোক ছড়িয়ে পড়ুক টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার প্রতিটি গ্রামীণ হাসপাতালে।