September 9, 2026, 6:44 am
শিরোনাম:
মতলব লামচরী ব্রহ্মানন্দ যোগাশ্রমে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু রাণীশংকৈলে গ্রাম আদালতকে গতিশীল করতে মতবিনিময় সভা ও ভিডিওচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হলেন কেশবপুরের ডক্টর রফিকুল ইসলাম ডিমলায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস অনুষ্ঠিত চাটমোহরে অসহায় আক্কাস আলীর ভিটেমাটি দখলের অপচেষ্টা, আদালতে পিটিশন দায়ের রাঙ্গামাটি ইয়ুথ মিশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, সভাপতি সিয়াম সম্পাদক নয়ন সাঁথিয়ায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীকে জবাই করে হত্যা ফরিদপুর পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামী,মাদকসেবী ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ সদস্যসহ গ্রেপ্তার-৭ চকরিয়ায় জন্মাষ্টমী মহোৎসব ও মহানামযজ্ঞ সম্পন্ন আটঘরিয়ায় বিএনপি নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

মতলব লামচরী ব্রহ্মানন্দ যোগাশ্রমে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু

রিপোর্টারের নাম

মতলব লামচরী ব্রহ্মানন্দ যোগাশ্রমে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু

স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজের শুভাগমন উপলক্ষে শতকণ্ঠে গীতা পাঠ, দীক্ষা দান ও ধর্মসভা

তাপস চন্দ্র সরকার, নিজস্ব প্রতিনিধি।।আন্তর্জাতিক শংকর মঠ ও মিশনের পঞ্চম আচার্য যোগাচার্য অধ্যক্ষ পরমহংস শ্রীশ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজের শুভাগমন উপলক্ষে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার লামচরী ব্রহ্মানন্দ যোগাশ্রমে দুদিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান, শতকণ্ঠে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, দীক্ষা দান, গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্র ও শনিবার লামচরী ব্রহ্মানন্দ যোগাশ্রম প্রাঙ্গণে এ দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্ব সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ১৮ সেপ্টেম্বর ব্রহ্মমুহূর্ত থেকে শুরু হবে বিভিন্ন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মসূচি। এদিন প্রথমে অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গল আরতি। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রভাতীয় শিব স্তুতি, গুরু বন্দনা, হরি ওঁ কীর্তন ও শ্রীশ্রী চণ্ডী পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। পরে ভক্তদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ শতকণ্ঠে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ। এরপর থাকবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে আগ্রহী ভক্তদের জন্য দীক্ষা দান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। দীক্ষা দান পর্বের পর গুরুদেবের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনের সবশেষে অনুষ্ঠানে আগত ভক্ত, শ্রোতা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।

দ্বিতীয় দিন ১৯ সেপ্টেম্বরও ব্রহ্মমুহূর্ত থেকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। এদিন মঙ্গল আরতি, প্রভাতীয় শিব স্তুতি, গুরু বন্দনা ও হরি ওঁ কীর্তনের পর অনুষ্ঠিত হবে শ্রীশ্রী গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা। গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে দীক্ষা দান কর্মসূচি। দীক্ষা দান ও পুরস্কার বিতরণ শেষে গুরুদেবের আলোচনা এবং বিশেষ ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে আগত ভক্ত-শ্রোতাদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।

দুদিনব্যাপী এ আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘অসাম্প্রদায়িকতা ধর্মের ভূষণ’ শীর্ষক বিশেষ ধর্মীয় আলোচনা সভা। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড আন্তর্জাতিক শংকর মঠ ও মিশনের পঞ্চম অধ্যক্ষ শ্রীশ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শ্রীশ্রীমৎ স্বামী মুক্তানন্দ গিরি মহারাজ, শ্রীশ্রীমৎ সেবানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ ও শ্রীশ্রীমৎ সূচেতনান্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন লামচরী ব্রহ্মানন্দ যোগাশ্রমের সভাপতি শংকর রাও নাগ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন লামচরী ব্রহ্মানন্দ যোগাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক সমরেশ হাওলাদার এবং পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন স্থানীয় ইউপি সদস্য তাপস সরকার।

আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা, আধ্যাত্মিক চেতনা, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বাণী ও ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে ‘অসাম্প্রদায়িকতা ধর্মের ভূষণ’ শীর্ষক আলোচনা সভার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও মানবতার গুরুত্ব তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

দুই দিনব্যাপী এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী, ধর্মপ্রাণ মানুষ ও সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগম হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানকে সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বে সনাতনী সকলের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, অংশগ্রহণ ও সার্বিক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করেছেন আয়োজকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST