বিজয়নগরের নাকের ডগায় মরণফাঁদ, ভাঙা ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে মানুষের চলাচল
শফিকুর রহমান শাহীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ ভবনের দক্ষিণ পাশে সংলগ্ন একটি ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। ব্রিজটির মধ্যাংশে বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় এটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথে চলাচল করছেন পাহাড়পুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা সদর থেকে পাহাড়পুর ইউনিয়নের আউলিয়া বাজারে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১০/১৫ হাজার মানুষ চলাচল করেন। ব্রিজটির মাঝখানে বড় গর্ত ও ভাঙা অংশ থাকায় পথচারী ও যানবাহন চালকদের প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করছে।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটি পাহাড়পুর ইউনিয়নের পাশাপাশি বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মানুষেরও উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। পাহাড়পুর ইউনিয়নের অর্থকরী ফসলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনের জন্য এ সড়কটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় যানবাহন এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করে।
এ ছাড়া পাহাড়পুর এলাকা থেকে বাঁশসহ বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটবোঝাইসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন নিয়মিত চলাচলের কারণে ব্রিজটির ক্ষয়ক্ষতি দিন দিন বাড়ছে।
ব্রিজটির বেহাল দশার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা আক্ষেপ করে বলেন, উপজেলা প্রশাসন ভবনের একেবারে পাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা হতাশ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্রিজটি পরিদর্শন করে এর প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান ভূঁইয়া জানান, বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শফিকুর রহমান শাহীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া,01717490756