ফৈলজানা ইউনিয়নে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য সকলের ঐক্যবদ্ধ সম্প্রীতি প্রয়োজন!
বাংলাদেশের বিরাজমান পরিস্থিতি অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মানুষকে বেঁচে থাকতে বিব্রত করে তুলেছে।
পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়ন একটি জনবহুন ও ঘনবসতি এলাকা। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর বৃহৎ দুটি দলের পালা বদলের মধ্য দিয়েই চলে আসছে ফৈলজানা ইউনিয়নের জনগন। কখনো আওয়ামী লীগ আবার কখনো বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছে, মাঝে এক যুগ সেনাবাহিনীর সরকার ও সেনা সমর্থিত সরকার, তুরস্ক, পাকিস্তান, আমিরিকার পছন্দের জামায়াত এনসিপির সরকারও রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন।
ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত
চেয়ারম্যান সাহেবরা ক্ষমতায় বসেন। আমরা দল মতকে পাশ কাটিয়ে তাদের কাছ থেকে সেবা গ্রহন করেছি।
রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরী করতে কখনো কোন চেয়ারম্যানকে গুরুতর ভুমিকা পালন করতে দেখিনি দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া।
তৎকালীন চেয়ারম্যান সাহেবরা রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রেখে চলতে সদা তৎপর থেকেছেন।
দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখ যা্যযে, ফৈলজানা ইউনিয়নে ৫ আগষ্টের পরে যে সহিংসতা পরিলক্ষিত হয়েছে তা সত্যি সত্যিই উদ্বেগ জনক। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগের অসংখ্য নেতা কর্মী ইতোমধ্যেই পালাক্রমে ধারাবাহিক ভাবে জেলা খেটেছেন, জরিমানা দিয়েছেন। তারাও রাজনৈতিক সম্প্রীতির অজুহাতে কোন মতেই বাঁচতে পারেনি। আওয়ামী লীগের, ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীরা ৫ আগষ্ট থেকে ফেরারী, অনেকের ঘর বাড়ী ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে, দুই একজনের বাড়ী জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, কাউকে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। দোকান পাট ভাঙ্গা হয়েছে। রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখার পরিবর্তে অস্থিরতা তৈরী করেছে। এখন রাজনৈতিক অস্থিরতার মাত্রা একটু বেশিই পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফৈলজানা ইউনিয়নে বিগত দিনের সকল কালচার সংস্কৃতি কে পাশ কাটিয়ে ৫ আগষ্টের সরকারের সময়ে অস্থিরতা সংঘাত তৈরী হয়েছে। আবার ১২ ফেব্রুয়ারীর সরকার গঠনের পর অস্থিরতার ধরন পরিবর্তন হয়েছে। আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ তথা সহযোগী সংগঠনের উপর আঘাত আসতো। আর এখন সরকারি দল ও বিরোধী দল একে অপরের প্রতি অস্থিরতা তৈরীতে ব্যস্ত। আমরা ফৈলজানা ইউনিয়নের শান্তিপ্রিয় জনগণ, নাগরিক রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রেখে চলতে সদা তৎপর। রাজনৈতিক অস্থিরতা সংঘাত আমাদের পছন্দ নয়। তাইতো হুঁসিয়ারী উচ্চারন করে বলতে চাই রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে, অস্থিরতা তৈরী করা চলবেনা।
এখন আষাঢ় মাস চলছে! সারা বছরই আষাঢ় মাস থাকবেনা। সুর্যের ছায়া এখন যারা বেশি পাচ্ছেন, শরীরে ভিটামিন ডি বেশি পরিমাণে জমছে বা ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ হয়ে গেছে বা যাচ্ছে, তারাও ভিটামিনের অভাবে ভুগবেন।
অতএব, ফৈলজানা ইউনিয়নের শান্তিপ্রিয় জনগণ নাগরিকদের ঐক্য বদ্ধ ভাবে চলতে হবে ও ঐক্যবদ্ধ থাকাটা বেশি জরুরী। রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে থাকার চেয়ে নিরাপদে সম্মানের সঙ্গে থাকাটা বেশি জরুরী। বাসৃতব অভিজ্ঞতা থেকে সহজে বলতে পারি রাজনৈতিক সম্প্রীতি সেতো অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু কিছু মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মহানুভবতায় ফৈলজানা ইউনিয়নে প্রশান্তি দায়ক পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে?
শ্রাবণ আসবে আবার ফিরে,যাবে স্মৃতিপটে নিয়ে যাবে রুপ বৈচিত্র্যময় কিছু চিহ্ন। তাইতো রাজনৈতিক অস্থিরতা নয় রাজনৈতিক সম্প্রীতি দিয়ে আমরা আমাদের প্রিয় জনপদ ফৈলজানাকে মানবিক মুল্যবোধে বাসযোগ্য করে গড়তে চাই। সময় আছে পরিশুদ্ধ হওয়ার! নচেৎ অদুর ভবিষৎ আমাদেরকে ক্ষমা করবেনা আমাদের কৃতকর্মের মুল্য নিরুপন করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে……!
(তারিখঃ ২৭ জুন ২০২৬)
🖋️এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ
অ্যাডভোকেট-
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, পাবনা।
★সভাপতি-
গ্রীনপিস বাংলা,
পাবনা জেলা শাখা, পাবনা।
★আহ্বায়ক-
নদী পরিব্রাজক দল,
পাবনা জেলা শাখা, পাবনা।