তমা হত্যা মামলাঃ নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ, ব্যবসায়ী হযরত আলীর প্রতিবাদ
ছাবেদুল সরকার-পাবনা প্রতিনিধিঃ
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামে কিশোরী কামরুন্নাহার তমা (১৬) হত্যা মামলাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নতুন ব্যক্তির নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা এবং এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী ও ব্যবসায়ী হযরত আলী তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর কিশোরী কামরুন্নাহার তমা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক ইউপি সদস্য আদম আলীকে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি করা হয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায়ী হযরত আলী বলেন, তমা হত্যা মামলা সম্পর্কে তিনি কোনোভাবেই অবগত নন এবং মামলার ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার দাবি, মামলার বাদী মাঝে মাঝে তাকে ফোন করে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলতেন। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা হস্তক্ষেপ করতে রাজি হননি।
হযরত আলী বলেন, বাদী ও বিবাদী উভয়েই আমার চাচাতো ভাই। আমাদের মাথার ওপর মুরুব্বি ও অভিভাবক রয়েছেন। তাদের কাছে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের কথা বলতে বলেছি কিন্তু তাদের কাছে না বলে বারবার আমাকে বলছে যা আমার পক্ষে কোন ভাবেই করা সম্ভব না। আমি এ বিষয়ে কোনো কিছু করার ক্ষমতা রাখি না। মামলার বিচার তার নিজস্ব গতিতে হোক, এটাই আমি চাই। নির্দোষ ব্যক্তি মুক্তি পাক এবং দোষী ব্যক্তি আইনের আওতায় এসে সাজা পাক।
তিনি আরও দাবি করেন, মীমাংসার বিষয়ে তার অনাগ্রহের কারণে তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও প্রচার চালানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
হযরত আলী আরও বলেন, আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। বর্তমানে ব্যবসা করছি। তমা হত্যা মামলা কিংবা এর কোনো পক্ষের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমার নামে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ বা অভিযোগ প্রচার করা হলে আমি তার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।
এদিকে মামলার বাদী নায়েব আলীর বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের এক বাদী নায়েব আলীর এক সদস্য জানান, তমার মৃত্যুর পরপরই নায়েব আলী বাড়ি থেকে চলে যান এবং এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, মামলাটি যেহেতু বর্তমানে বিচারাধীন, তাই কারও বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো অভিযোগ বা নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সত্যতা নির্ধারণ হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্দোষ কাউকে হয়রানি না করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।