জামালপুরে বিজ্ঞ বিচারক দম্পতি’র বাসায় চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার ০৫, আলামত উদ্ধার ও ০৩ আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
কাওছার আহমেদ,
জামালপুর প্রতিনিধি।
গত ৩০/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৭.০০ ঘটিকা হতে ০৮.০০ ঘটিকার মধ্যে জামালপুর জেলায় কর্মরত বিজ্ঞ বিচারক জনাব আহমাদুল কবির শাকিল ও বিজ্ঞ বিচারক জনাব নুসরাত জেরিন জেনি দম্পতির জামালপুর সদর থানাধীন আমলাপাড়াস্থ মোঃ আনোয়ার হোসেন এর ভাড়া বাসায় জানালার গ্রিল কেটে নগদ ০১ লক্ষ টাকাসহ বিভিন্ন ¯^র্ণালংকার সর্বমোট মূল্য অনুমান ১৯,১৭,৯৮৫/- টাকা চুরির ঘটনা ঘটে| উক্ত ঘটনায় এ.কে.এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী, ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নাজির, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, জামালপুর বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা (মামলা নং-০৩, তারিখ-০১/০৭/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৩৭৯/৩৮০/৪৫৪/৪৫৭ পেনাল কোড) দায়ের করেন| মামলার তদন্তভার বিজ্ঞ আদালত স্বপ্রণোদিতভাবে পিবিআই, জামালপুর এর উপর অর্পণ করলে মামলার তদন্তভার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ)/রুপন কুমার সরকার, পিপিএম-বার, মোবাঃ ০১৯৫১-৩৯৩৮৫২ এর উপর অর্পণ করা হয়|
জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল, অ্যাডিশনাল আইজিপি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই, জামালপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব পংকজ দত্ত, পিপিএম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষন ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্র চুরির ঘটনায় জড়িত আসামী ১| মোঃ রাহুল (২৪), ২| মোঃ বিশাল (২১), উভয় পিতা-হাবু মিয়া, সাং-বাগেরহাটা, ৩| মোঃ দুখু মিয়া (২৪), পিতা-আব্দুল আজিজ, সাং-ডাকপাড়া, সর্ব থানা ও জেলা-জামালপুর এবং চোরাইকৃত স্বর্ণালংকার ক্রয়ের সাথে জড়িত ১| মোঃ মাসুদ রানা (৪২), পিতা-মৃত নবাব আলী, সাং-মুকন্দবাড়ী, থানা-জামালপুর সদর, ২| মোশারফ হোসেন (৩৮), পিতা-মৃত সোহরাব আলী, সাং-ভেলামারী, থানা-মাদারগঞ্জ, উভয় জেলা-জামালপুরদের গ্রেফতার করা হয়| তদন্তে প্রাপ্ত আসামী মোঃ মাসুদ রানার হেফাজত হতে চোরাইকৃত স্বর্ণালংকারের মধ্যে রুপান্তরিত এক টুকরো স্বর্ণ যার ওজন ২৩.১৯ গ্রাম মূল্য অনুমান ৪,৫০,০০০/- (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং আসামী মোশারফ হোসেন এর হেফাজত হতে চোরাইকৃত ¯^র্ণালংকারের মধ্যে রুপান্তরিত ০৮ আনা ০৫ রতি ওজনের বিভিন্ন ¯^র্ণালংকার মূল্য অনুমান ১,২০,০০০/- (এক লক্ষ বিশ হাজার) টাকা ও প্রায় ২৬ ভরি ওজনের রুপার অলংকার মূল্য অনুমান ১,০৪,০০০/- (এক লক্ষ চার হাজার) টাকা উদ্ধার পূর্বক জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়|
অত্র মামলার এজাহার, তদন্ত ও আসামীদের প্রদত্ত ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক প্রদত্ত জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, গত ৩০/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৭.০০ ঘটিকার দিকে আসামী রাহুল, বিশাল, দুখুসহ সহযোগী আসামীদের নিয়ে জামালপুর জেলায় কর্মরত বিজ্ঞ বিচারক জনাব আহমাদুল কবির শাকিল ও বিজ্ঞ বিচারক জনাব নুসরাত জেরিন জেনি দম্পতির জামালপুর সদর থানাধীন আমলাপাড়াস্থ জনৈক মোঃ আনোয়ার হোসেন এর ৩য় তলার ভাড়া বাসায় জানালার গ্রিল কেটে আসামীরা প্রবেশ করে নগদ ০১ লক্ষ টাকাসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার সর্বমোট মূল্য অনুমান ১৯,১৭,৯৮৫/- টাকা চুরি করে| তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষন ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্র চুরির ঘটনায় জড়িত আসামী মোঃ রাহুল, মোঃ বিশাল দ্বয়কে গত ২৫/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে গ্রেফতার করা হয়| পরবর্তীতে তাদের ৩১/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে রিমান্ডে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করে অত্র মামলার ঘটনায় জড়িত অপর আসামী মোঃ দুখু মিয়াকে গত ০২/০৯/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে গ্রেফতার করা হয়| তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অত্র চুরির ঘটনা ¯স্বীকার করলে তাদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে চোরাইকৃত স্বর্ণালংকার ক্রয়ের সাথে জড়িত আসামী মোঃ মাসুদ রানাকে জামালপুর পৌরসভাধীন বানিয়া বাজার এলাকা হতে এবং আসামী মোশারফ হোসেনকে মাদারগঞ্জ থানাধীন মিলন বাজার এলাকা হতে গত ০৩/০৯/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে গ্রেফতার করা হয়| পরবর্তীতে গত ১৬/০৯/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে আসামী মোঃ মাসুদ রানা ও মোশারফ হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা অত্র চুরির ঘটনায় চোরাইকৃত স্বর্ণালংকার ক্রয়ের বিষয়টি স্বীকার করলে আসামী মোঃ মাসুদ রানার হেফাজত হতে চোরাইকৃত স্বর্ণালংকারের মধ্যে রুপান্তরিত এক টুকরো ¯স্বর্ণ যার ওজন ২৩.১৯ গ্রাম মূল্য অনুমান ৪,৫০,০০০/- (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং আসামী মোশারফ হোসেন এর হেফাজত হতে চোরাইকৃত স্বর্ণালংকারের মধ্যে রুপান্তরিত ০৮ আনা ০৫ রতি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার অনুমান ১,২০,০০০/- (এক লক্ষ বিশ হাজার) টাকা ও প্রায় ২৬ ভরি ওজনের রুপার অলংকার মূল্য অনুমান ১,০৪,০০০/- (এক লক্ষ চার হাজার) টাকা উদ্ধার পূর্বক জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়| উক্ত চুরির ঘটনায় সরাসরি জড়িত আসামী ১| মোঃ রাহুল (২৪), ২| মোঃ বিশাল (২১) ও ৩| মোঃ দুখু মিয়া (২৪)দের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে তারা প্রত্যেকেই অত্র চুরির ঘটনায় জড়িত মর্মে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে|
এই বিষয়ে পিবিআই, জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার জানান যে, “মামলাটি বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে প্রাপ্ত হওয়ার পর পরই অত্র মামলার তদন্তকারী অফিসারসহ অভিযান টিমের অক্লান্ত পরিশ্রমের ধারাবাহিকতায় অত্র চুরির ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ আসামী গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়”
মামলার ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামী গ্রেফতার ও অবশিষ্ট চোরাইকৃত স্বর্ণালংকার উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত আছে|
কাওছার আহমেদ,
জামালপুর।
২০.০৯.২৬
[ বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন PBI জামালপুর ইউনিট ইনচার্জ SP পংকজ দত্ত PPM ]