ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননা ও মন্দির ধ্বংসের হুমকির প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননা এবং গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ভাঙচুর ও ধ্বংসের হুমকির প্রতিবাদে কুমিল্লায় ব্যাপক মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২০ জুন ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টায় কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখা।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি অমল দত্ত। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস বকসী। এছাড়াও বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক পিংকু চন্দ, সহ-সভাপতি অচিন্ত্য দাশ টিটু, সাংবাদিক দীলিপ মজুমদার, আদর্শ সদর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি ডা. মধুসূদন রায়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি যোগেশ সরকার, সাধারণ সম্পাদক বাপ্পি দে এবং বিভিন্ন সনাতনী সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে পারস্পরিক সহাবস্থানের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে আসছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে বারবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে, দেব-দেবীর অবমাননা করছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ধ্বংস ও ভাঙচুরের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং ধর্মীয় উপাসনালয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
সমাবেশ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জীবন, সম্পদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘সনাতন সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিও জানানো হয়। বক্তারা বলেন, দেশের সকল নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবি।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল পূবালী চত্বর থেকে শুরু হয়ে মনোহরপুর, রাজগঞ্জ ও কান্দিরপাড়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি ঈশ্বর পাঠশালা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় অবমাননা, মন্দির ধ্বংসের হুমকি ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, পেশাজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।