August 20, 2026, 12:58 pm
শিরোনাম:
বিজয়নগরে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার। নওগাঁর শহর জুরে সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের নতুন উদ্যোগ। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ভুয়া দন্ত চিকিৎসকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড প্রবীণ রাজনীতিবিদ তপন বকসীর প্রয়াণে কুমিল্লায় শোকের ছায়া বড়াইগ্রামে বনপাড়া বাইপাসে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫ বিজয়নগরে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার নওগাঁ গোস্তোহাটি মোড়ে অভাবের সংসারে ঢোঁকাদিতে বৌদি দিলেন চায়ের ষ্টল ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি গ্রামীণ সড়কের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে ADB কর্মশালা ও মোবাইল অ্যাপস নিয়ে আলোচনা চাকরির উদ্যশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে কয়েকঘণ্টার ব্যাবধানে ফিরলো লাশ হয়ে

প্রবীণ রাজনীতিবিদ তপন বকসীর প্রয়াণে কুমিল্লায় শোকের ছায়া

রিপোর্টারের নাম

প্রবীণ রাজনীতিবিদ তপন বকসীর প্রয়াণে কুমিল্লায় শোকের ছায়া

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহলের গভীর শোক ও সমবেদনা

তাপস চন্দ্র সরকার।।
ইহজগতের সকল মায়া-মমতা, আপনজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন কুমিল্লার প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও ধর্মীয়-সামাজিক অঙ্গনের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব তপন বকসী। তাঁর মৃত্যুতে কুমিল্লার চান্দিনাসহ জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একজন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সংগঠক ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ মানুষ হিসেবে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান স্মরণ করছেন সহকর্মী, সহপাঠী, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহীরা।
তপন বকসী ২০ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় কুমিল্লার মুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ৭৩ ছিল। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
প্রয়াত তপন বকসী ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি। পাশাপাশি তিনি চান্দিনা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক পথচলায় তিনি মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
চান্দিনার হারং বকসী বাড়ির নিবাসী তপন বকসী ছিলেন বিধুভূষণ বকসীর পুত্র। শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন চান্দিনার ঐতিহ্যবাহী চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৭০ ব্যাচের শিক্ষার্থী। কৈশোরের সেই শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে পরবর্তী জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত আপনজন ও স্মৃতিময় এক মানুষ।
তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি শোকাহত হয়েছেন রাজনৈতিক সহকর্মী, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু-স্বজনরা। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ভারী আবহ।
তপন বকসীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী, আইসিটি সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মধুসূদন বিশ্বাস লিটন।
একই সঙ্গে শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল পাল ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সরকার। তাঁরা প্রয়াত তপন বকসীর বিদেহী আত্মার শান্তি ও সৎগতি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহপাঠী ও বন্ধু চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৭০ ব্যাচের ছাত্র সুবাস চন্দ্র মজুমদার। সহপাঠী জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি তপন বকসীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেন। একজন সহপাঠী হিসেবে শুরু হওয়া সম্পর্ক যে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অটুট ছিল, তাঁর মৃত্যু সেই স্মৃতিকে আরও বেদনাবিধুর করে তুলেছে।
এছাড়াও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমল চন্দ খোকন গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
অপরদিকে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, আদর্শ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি যোগেশ চন্দ্র সরকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. মধুসূদন রায়সহ বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কুমিল্লা জেলা ও মহানগর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও তপন বকসীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, তপন বকসীর চলে যাওয়া কুমিল্লার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। তিনি ছিলেন মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত একজন প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তাঁকে সবার কাছে আলাদা করে পরিচিত করে তুলেছিল। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
তাঁরা আরও বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তপন বকসী মানুষের কল্যাণ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর কর্মময় জীবন, মানুষের প্রতি আন্তরিকতা এবং সমাজের জন্য রেখে যাওয়া অবদান ভবিষ্যতেও তাঁকে স্মরণীয় করে রাখবে।
একজন মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নেন, কিন্তু তাঁর কর্ম, ভালোবাসা ও মানুষের হৃদয়ে রেখে যাওয়া স্মৃতি থেকে যায়। তপন বকসীর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। চান্দিনার মাটি, তাঁর সহপাঠীদের স্মৃতি, রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের পথচলা এবং ধর্মীয়-সামাজিক সংগঠনের নানা কর্মকাণ্ডে তাঁর উপস্থিতির স্মৃতি দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াবেন স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
তাঁর চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল একটি পরিবারের নয়; তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অসংখ্য মানুষ ও সংগঠনের কাছেও এটি গভীর বেদনার। আপনজন হারানোর এই কঠিন সময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও যেন অনেকের কাছে হারিয়ে গেছে।
শোকাহত স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের একটাই প্রার্থনা—পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা যেন প্রয়াত তপন বকসীর বিদেহী আত্মার সৎগতি ও শান্তি দান করেন এবং তাঁর পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি প্রদান করেন।
তাঁর কর্মময় জীবনের স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকুক—এই প্রত্যাশাই এখন তাঁর স্বজন, সহকর্মী, সহপাঠী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST