প্রবীণ রাজনীতিবিদ তপন বকসীর মৃত্যুতে চান্দিনায় শোকের ছায়া
আগামী শনিবার পারিবারিক শ্মশানে শেষকৃত্যানুষ্ঠান
তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা।।
কুমিল্লার চান্দিনার প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি ও চান্দিনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন বকসী (৭৩) আর নেই। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) সকাল ৮টায় কুমিল্লার মুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। শোকাহত গোটা চান্দিনা।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, বন্ধু-বান্ধব এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তিনি চান্দিনার মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী শনিবার (২২ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ৩টায় চান্দিনার পারিবারিক শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাতিজি জামাই সুজন চন্দ্র সরকার।
তপন বকসী ছিলেন চান্দিনার হারং বকসী বাড়ির বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত বিধুভূষণ বকসীর পুত্র। শৈশব থেকেই তিনি শিক্ষা, সমাজ ও মানুষের কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৭০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে স্থানীয় মানুষের পাশে থেকে দীর্ঘদিন জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।
চান্দিনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তপন বকসী স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের নানা সমস্যা ও দাবিদাওয়া নিয়ে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন একজন প্রবীণ ও পরিচিত মুখ। পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর ছিল সক্রিয় ভূমিকা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তাঁর মৃত্যুতে চান্দিনার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের পরিচিতজনদের অনেকেই তাঁকে স্মরণ করে বলছেন, তপন বকসী ছিলেন মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যেতে পারা একজন সজ্জন, সদালাপী ও সমাজমনস্ক মানুষ। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করতেন। তাঁর দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য মানুষের সঙ্গে গড়ে উঠেছিল আত্মিক সম্পর্ক।
জীবনের শেষ সময়েও তিনি ছিলেন চিকিৎসাধীন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে না ফেরার দেশে চলে যান এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তাঁর মৃত্যুতে একদিকে যেমন পরিবার হারিয়েছে একজন প্রিয় অভিভাবককে, অন্যদিকে চান্দিনার মানুষ হারিয়েছে দীর্ঘদিনের একজন পরিচিত মুখ ও জনসম্পৃক্ত ব্যক্তিত্বকে।
তাঁর প্রয়াণের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তাঁর স্মৃতিচারণ করে গভীর শ্রদ্ধা ও শোক জানিয়েছেন।
তপন বকসীর চলে যাওয়া যেন একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান। তাঁর কর্মময় রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নানা স্মৃতি এখন স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মনে বারবার ফিরে আসছে। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়, এমনটাই মনে করছেন তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিতজনেরা।
আগামী শনিবার দুপুর ৩টায় পারিবারিক শ্মশানে শেষকৃত্যানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁর নশ্বর দেহের শেষ বিদায় সম্পন্ন হবে। তবে মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং স্মৃতিময় পথচলা তাঁকে বেঁচে রাখবে তাঁর স্বজন, সহযোদ্ধা ও চান্দিনার মানুষের হৃদয়ে।
পরম করুণাময় তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করুন। ওঁ শান্তি।