দাঁতভাঙ্গা-কাউনিয়ার চরের জরাজীর্ণ কাঠের ব্রিজ: ১৫ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষের জীবনের ঝুঁকি
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের শালুর মোড় থেকে কাউনিয়ার চরগামী সড়কের জরাজীর্ণ কাঠের ব্রিজটি এখন এলাকাবাসীর চলাচলের ক্ষেত্রে এক আতঙ্কের নাম। ব্রিজের দু’পাশে নিরাপত্তার কোনো রেলিং বা হাতল নেই, কাঠ ও খুঁটিগুলো হেলে পড়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই নড়বড়ে কাঠের ওপর দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার ১৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার অধিবাসী।
প্রতিদিনের চলাচলে সবচেয়ে বেশি চরম ঝুঁকিতে পড়ছে কোমলমতি স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী এবং প্রবীণ নাগরিকরা। দাঁতভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. শিমুল জানায়, “প্রতিদিন এই ব্রিজের ওপর দিয়ে স্কুলে যাই, খুব ভয় লাগে। এটা ভালো হলে আমাদের যাতায়াত অনেক সহজ হতো।” জরাজীর্ণ এই ব্রিজের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে অন্য এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীদের অনুভূতিতেও। রৌমারী থেকে কাউনিয়ার চরে দাওয়াত খেতে আসা আসমা খাতুন বলেন, “এই ব্রিজটি দেখে মনে হয় এলাকার মানুষ এখনো ৫০ বছর পিছিয়ে রয়েছে। চরম ভয় আর সতর্কতা নিয়ে পার হতে হয়েছে।” স্থায়ী কোনো পাকা সেতু না থাকায় স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. কাইয়ুম জানান, পূর্বে এখানে একটি কালভার্ট থাকলেও দু’পাশের মাটি সরে গিয়ে সেটি ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে তৈরি এই কাঠের ব্রিজটিও দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে ২৮-কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের প্রতিনিধি জনাব মাহবুব আলম জানান, এমপি মহোদয় ইতোমধ্যে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দাঁতভাঙ্গা শালুর মোড় থেকে কাউনিয়ার চর পথের এই নড়বড়ে ব্রিজটির জায়গায় দ্রুত একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।