August 2, 2026, 8:39 am
শিরোনাম:
ডিমলায় তিস্তা ও বুড়িতিস্তা প্রকল্প পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের হরিপুর উপজেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন কটিয়াদীতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা জোরদার, ওসিকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ নড়াইলের লোহাগড়ায় জাল দলিলে নামজারি ভূমি অফিসের নায়েবদের ভয়াবহ জালিয়াতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের হরিপুর উপজেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন নওগাঁর মহাদেবপুর চৌমাশিয়া কৃষক দলের আয়োজনে শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট এর শুভ উদ্বোধন ফেসবুকে প্রেম থেকে নেত্রকোনায় এসে তরুণীকে বিয়ে করে চীনা যুবক ওয়্যাং সুলিন এখন নুর উদ্দিন ​ নোয়াখালীতে হেফাজতের সমাবেশে প্রশাসনের শর্ত লঙ্ঘন, উস্কানি ও মিথ্যাচারের দাবি হেযবুত তওহীদের মানবিক আবেদনকে পুঁজি করে প্রতারণা: প্রসূতি মা ও অনাগত যমজ সন্তানের জীবন বাঁচানোর আকুতির সুযোগে অর্থ আত্মসাৎ কুমিল্লাকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে সুজনের মানববন্ধন

কটিয়াদীতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা জোরদার, ওসিকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম

কটিয়াদীতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা জোরদার, ওসিকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ

ফরহাদ হোসেন রাজ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের পর কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলামকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য ও প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ কটিয়াদী মডেল থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদক, চুরি, ছিনতাই, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন সময় মাদকদ্রব্য, নগদ টাকা, দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
মাদকবিরোধী তৎপরতায় বাড়ছে চাপ
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানোর অভিযোগও উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে তদন্তের দাবি জানানো যেতে পারে। তবে কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে একতরফাভাবে প্রচার করা হলে তাতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
তবে ওসি রফিকুল ইসলামকে ঘিরে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।
অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কটিয়াদী মডেল থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার ও অন্যান্য অপরাধের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, একটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে পুলিশের প্রতিটি কার্যক্রম হতে হবে আইনানুগ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
অভিযোগ থাকলে তদন্তের দাবি
সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশ বা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি ভিত্তিহীন অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া দরকার।
কারণ, প্রমাণ ছাড়া গুরুতর অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত, তেমনি পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট অভিযোগকে তদন্ত ছাড়া উপেক্ষা করাও সমীচীন নয়।
মাদকমুক্ত কটিয়াদীর প্রত্যাশা
মাদক একটি পরিবার থেকে শুরু করে পুরো সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে শিক্ষা, পারিবারিক পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ কারণে কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
তাদের ভাষ্য, অপরাধী যেই হোক, তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত বিরোধ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার ভিত্তিতে হয়রানি করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
ওসির বক্তব্য
কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন। মাদক বা অপরাধ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনসম্মত অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী অভিযান কোনো ধরনের চাপ, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা কিংবা স্বার্থান্বেষী তৎপরতায় যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। একই সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত থাকবে।
তাদের মতে, অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে তদন্তের মাধ্যমে, প্রচারণার মাধ্যমে নয়। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নিতে হবে, আবার নির্দোষ কাউকে হয়রানি থেকেও সুরক্ষা দিতে হবে।
কটিয়াদীবাসীর প্রত্যাশা, মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার হবে এবং আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST