ঈদ আনন্দ পরিণত হলো মহাশোকে: ট্রাকে বাড়ি ফেরার পথে ঝরল নওগাঁর ১০ তরুণের প্রাণ
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : মোঃ রাফি হোসেন
ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। কিন্তু সেই ফেরা আর ঘরে পৌঁছানো হলো না। মাত্র ১৮০০ টাকা বাসভাড়া বাঁচাতে নোয়াখালী থেকে রডবোঝাই ট্রাকে চড়ে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছিলেন নওগাঁর মান্দা ও নিয়ামতপুর উপজেলার ১০ তরুণ। পথেই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। সোমবার (২৫ মে) ভোরে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্বপাড় এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
এ ঘটনায় পুরো নওগাঁ জেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিশেষ করে মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে চলছে মাতম। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং তারা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। অপর নিহত ব্যক্তি নিয়ামতপুর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা নোয়াখালীর বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে কাজ করতেন। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরার জন্য তারা পরিবহন খরচ কমাতে একটি রডবোঝাই ট্রাকে যাত্রী হিসেবে ওঠেন। সোমবার ভোররাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্ত এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
একপর্যায়ে ট্রাকটি মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। এতে ট্রাকে থাকা যাত্রীরা রডের নিচে চাপা পড়েন। দুর্ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও কয়েকজন মারা যান। এ ঘটনায় মোট ১৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে শুরু হয় শোকের মাতম। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। একসঙ্গে এত তরুণের মৃত্যুতে স্তব্ধ স্থানীয় জনপদ।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— মো. সুলতান হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ তারেক, মো. আব্দুর রশিদের ছেলে মো. আব্দুল বারেক, মো. আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ বাদশা, একাব্বর হোসেনের ছেলে মো. সোহাগ হোসেন, মো. শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল এবং মোহাম্মদ সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগরসহ আরও কয়েকজন।
স্বজনদের হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো। প্রতিবেশীরাও সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। ঈদের আগে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় বইছে শোকের ছায়া।