November 3, 2026, 11:44 pm
শিরোনাম:
রামপালে নিরাপদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের লক্ষ্যে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত  চালকের বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেল জামালপুর এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নকল টাইলস ফুডিং ও ফ্লোর ক্লিনার তৈরির দায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা উখিয়ায় শিক্ষার্থীদের হয়রানির প্রতিবাদে ইউএনও’কে ছাত্রদলের স্মারকলিপি জমি নিয়ে বিরোধে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, ২৮ দিনেও অধরা অধিকাংশ আসামি জামালপুরের বকশীগঞ্জে মাদকের বিরেুদ্ধে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ সমাবেশ বাঞ্ছারামপুরে ১২০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার কাশিয়ারবিল রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞের পরিচালনা কমিটি গঠন, উৎসবের তারিখ ঘোষণা পাবনা পৌরসভার উন্নয়নে মেয়র প্রার্থীদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কুমিল্লায় ২২ নভেম্বর শুরু হচ্ছে শ্রীশ্রী রামচন্দ্র দেবের ৮৮তম রাসোৎসব

তাহিরপুর উপজেলার চরগাঁও গ্রামে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক, ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ।

রিপোর্টারের নাম

তাহিরপুর উপজেলার চরগাঁও গ্রামে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক, ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ।
আমির হোসাইন
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চড়গাঁও গ্রামের গার্মেন্টসকর্মী ছমিনা আক্তার (৩০) হত্যার ঘটনায় তার স্বামী জুয়েল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে নিহতের গ্রামের বাড়িতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গাউছিয়া এলাকার গোলাকান্দাইল সাওঘাটের একটি ভাড়া বাসায় দুই সন্তানের জননী ছমিনা আক্তারকে গলা টিপে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী জুয়েল মিয়া (৩৮) ঘরের ভেতরে মরদেহ রেখে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। পরে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় একই রাতে ঢাকার ইসলামবাগ এলাকা থেকে অভিযুক্ত জুয়েল মিয়াকে আটক করা হয়।

এদিকে, ৯ জুলাই সকালে নিহত ছমিনার গ্রামের বাড়ি তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চড়গাঁও গ্রামে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান।

নিহতের পরিবার জানায়, প্রায় নয় বছর আগে একই গ্রামের মোর্শেদ মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে ছমিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাদকাসক্ত জুয়েল ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় ছমিনার ওপর নির্যাতন চালাতেন এবং বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছে।

পরিবারের দাবি, নির্যাতনের কারণে ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট আদালতের মাধ্যমে জুয়েলকে তালাক দেন ছমিনা। এরপর দুই সন্তানকে বাবা-মায়ের কাছে রেখে ঢাকায় কাজের সন্ধানে যান। পরে রূপগঞ্জ এলাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

পরিবারের ভাষ্য, কয়েক মাস আগে জুয়েল রূপগঞ্জে গিয়ে ছমিনার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেন এবং বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে একই বাসায় থাকতে শুরু করেন। ঘটনার দিন বাড়িতে ফেরা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছমিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

নিহতের মা জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শুধু জুয়েল নয়, তার পরিবারের অন্য সদস্যদেরও এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত সকলের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই রাতে অভিযুক্ত জুয়েল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই মুসা মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST