July 20, 2026, 8:07 am
শিরোনাম:
আসন্ন হাদল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হতে আগ্রহী ইঞ্জি. মো. ময়নুল ইসলাম শরতের আগেই চলনবিলে লাল-সাদা শাপলার সমারোহ উন্নয়নের অঙ্গীকারে পুঙ্গলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বাবুল আক্তারের ঘোষণা “আবারও আপনাদের পাশে থাকতে চাই” ভোট ও দোয়া চাইলেন বাবুল আক্তার নদীভাঙনে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ: স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস স্বপ্নের নওগাঁ-বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক নামফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু, উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে মেসেঞ্জারে হুমকি ও অশালীন গালিগালাজ,থানায় অভিযোগ কুমিল্লায় আইনজীবী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে প্রসাদ বিতরণ ও মিলনমেলা উন্নয়নের অঙ্গীকারে পুঙ্গলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বাবুল আক্তারের ঘোষণা উখিয়া মহাকাল ভৈরব মন্দিরের গীতা শিক্ষা নিকেতনের উদ্যোগে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। লামা সরই ইউনিয়নে টানা ভারি বর্ষণে ভেঙ্গেছে সড়ক ও সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

শরতের আগেই চলনবিলে লাল-সাদা শাপলার সমারোহ

রিপোর্টারের নাম

শরতের আগেই চলনবিলে লাল-সাদা শাপলার সমারোহ

মোঃ ইয়াছিন আলী সিরাজগঞ্জ 

দেশের সর্ববৃহৎ বিল চলনবিল শুধু মৎস্য ও শস্যভান্ডার হিসেবেই পরিচিত নয়; বর্ষায় অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য লীলাভূমিতেও পরিণত হয় এটি। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই বিলের বিস্তীর্ণ জলরাশিজুড়ে প্রতি বছর শরৎকালে লাল-সাদা শাপলার মনোমুগ্ধকর সমারোহ দেখা যায়। তবে এবার ব্যতিক্রম। শরতের অপেক্ষা না করেই শ্রাবণের শুরুতেই বিলের বুকজুড়ে ফুটেছে লাল-সাদা শাপলা।

আগাম ফোটা এই শাপলাকে ঘিরে এখন চলনবিলজুড়ে উৎসবের আমেজ। একদিকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন শাপলার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে, অন্যদিকে বিলপাড়ের শত শত কর্মহীন মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বনে পরিণত হয়েছে এই শাপলা।

বর্ষাকালে চলনবিল অঞ্চলের অনেক খেটে খাওয়া মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন। খেত-খামারে কাজ না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। তবে এবারের আগাম শাপলা যেন তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। প্রতিদিন ভোরে ডিঙি নৌকা নিয়ে বিলে গিয়ে কচি শাপলা সংগ্রহ করছেন তারা। পরে আঁটি বেঁধে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। তরকারি হিসেবে শাপলার চাহিদা থাকায় ভালো দামও মিলছে।

তারাশ উপজেলার সোহাগবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সাদেক আলী (৪৫) বলেন, বর্ষার এই সময়টায় আমাদের কোনো কাজ থাকে না। তাই শাপলা তুলে বিক্রি করি। কিন্তু এবার আল্লাহ আগেভাগেই বিলে শাপলা ফুটিয়েছেন। প্রতিদিন ভোরে নৌকা নিয়ে বের হই, দুপুর পর্যন্ত শাপলা তুলে আঁটি বেঁধে তারাশ বাজারে বিক্রি করি। এতে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার বিক্রি হয়। এই দুর্যোগের দিনে শাপলা বিক্রি করেই এখন আমাদের সংসার চলে।

শাপলা শুধু জীবিকার উৎসই নয়, স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের কাছেও এটি হয়ে উঠেছে আনন্দের উপলক্ষ। তারাশ গোল-ই আফরোজ সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী আলী হাসান জানান, এইচএসসি পরীক্ষার কারণে বর্তমানে কলেজ বন্ধ রয়েছে। অবসর সময় কাজে লাগিয়ে তিন বন্ধু মিলে ডিঙি নৌকা নিয়ে বিলে শাপলা তুলতে গিয়েছিলেন। পরে তেঁতুলের টক দিয়ে শাপলা মেখে খাওয়ার আনন্দ ছিল অন্যরকম।

সব মিলিয়ে চলনবিলে এখন এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। একদিকে দৃষ্টিনন্দন লাল-সাদা শাপলার সমারোহ প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে, অন্যদিকে এই শাপলাই অভাবী মানুষের জীবিকার ভরসা হয়ে উঠেছে। বর্ষার অপরূপ সৌন্দর্য আর জীবনের কঠিন বাস্তবতার এমন মানবিক মেলবন্ধন চলনবিলকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST