কুমিল্লায় কাল জগন্নাথ দেবের স্নান উৎসব
তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা।।
সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লায়ও আগামীকাল ২৯ জুন ২০২৬ (সোমবার) জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথি উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আচার শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের স্নান উৎসব (দেবস্নান পূর্ণিমা) অনুষ্ঠিত হবে।
এ উপলক্ষে সকাল থেকে কুমিল্লা নগরীর জগন্নাথপুরস্থ শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দির প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে সকল প্রস্তুতি। ভক্তদের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ধর্মীয় বিধান অনুসারে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব, শ্রীবলভদ্র ও দেবী সুভদ্রাকে গর্ভগৃহ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে স্নানবেদীতে আনা হবে। এরপর শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টাধ্বনি, উলুধ্বনি এবং বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে ১০৮টি পবিত্র কলসের জল দিয়ে দেববিগ্রহের মহাস্নান সম্পন্ন করা হবে। পরে দেববিগ্রহকে ঐতিহ্যবাহী গজবেশ (হাতি বেশ)-এ সজ্জিত করা হবে, যা উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।
উৎসব উপলক্ষে বিশেষ পূজা-অর্চনা, মঙ্গল আরতি, গীতাপাঠ, নামসংকীর্তন, ভজন, ধর্মীয় আলোচনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাস্নানের পর জগন্নাথ দেব, বলভদ্র ও সুভদ্রা জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর শুরু হয় অনসর পর্ব, যেখানে ১৫ দিন দেববিগ্রহ জনসাধারণের দর্শনের বাইরে থাকেন। এ সময় তাঁদের বিশেষ সেবা-শুশ্রূষা করা হয়। অনসর শেষে অনুষ্ঠিত হবে নবযৌবন দর্শন এবং তার পরপরই শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা।
ধর্মীয় নেতারা বলেন, জগন্নাথ দেবের স্নান উৎসব কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি মানবকল্যাণ, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও শান্তির এক অনন্য বার্তা বহন করে। এই উৎসবের মাধ্যমে সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হয়।
এদিকে, কুমিল্লার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জগন্নাথ মন্দিরেও একই দিনে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেবস্নান পূর্ণিমা উদযাপিত হবে।
এ মহতী ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতি ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ। তাঁরা সকল ভক্তকে সময়মতো মন্দিরে উপস্থিত থেকে উৎসবের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।