রৌমারীতে মাদকের বিরুদ্ধে অলআউট যুদ্ধ
কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
মাদক কেবল একজন মানুষকে মারে না, একটি আস্ত পরিবার ও সমাজকে জ্যান্ত কবর দেয়। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় আমাদের রৌমারীতে এই মরণব্যাধির প্রকোপ বরাবরেরই দুশ্চিন্তার কারণ। তবে গত বুধবার (১ জুলাই) রৌমারী থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের পিঠাপিঠি দুটি সফল অভিযান প্রমাণ করেছে—ইচ্ছে থাকলে অপরাধীদের কোমর ভেঙে দেওয়া সম্ভব। প্রথম অভিযানে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাইটকামারী এলাকার একটি পুকুরপাড় থেকে ৪০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় ঝুনকির চর এলাকার দুই মাদক কারবারি—আব্দুল হান্নান ও হাসমত আলীকে। রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব কাওছার আলীর নেতৃত্বে পুলিশের এই ঝটিকা অ্যাকশন ছিল দেখার মতো। ঠিক একই দিনে, টাপুরচর বাজারে অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ আটক করা হয় মনোয়ারা খাতুন নামের এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আলাউদ্দিন তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই দিনে প্রশাসনের এই জোড়া আঘাত মাদক সিন্ডিকেটের জন্য এক বড় ধাক্কা। একদিকে পুলিশি মামলা, অন্যদিকে ম্যাজিস্ট্রেটের তাৎক্ষণিক সাজা—প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অপরাধীদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, রৌমারীতে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই তৎপরতার কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তবে সমাজকর্মী হিসেবে মোঃ নাজমুল চৌধুরী (নয়া) মনে করেন, শুধু প্রশাসন একা লড়লে এই যুদ্ধ জেতা সম্ভব নয়। মাদক আমাদের সমাজটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে; অচিরেই এর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রসাতলে চলে যাবে। তাই প্রশাসনের এই অনমনীয় লড়াইয়ের পাশাপাশি আমাদেরও কিছু দায়িত্ব নিতে হবে: পারিবারিক নজরদারি: আপনার সন্তান কার সাথে মিশছে, কোথায় সময় কাটাচ্ছে, সেই খোঁজ রাখুন। সামাজিক প্রতিরোধ: মাদক ব্যবসায়ী বা এর গডফাদারদের সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ বয়কট করুন। তথ্য দিয়ে সহায়তা: আপনার আশেপাশে মাদকের কোনো কারবার চললে গোপনে তা পুলিশকে জানান। প্রশাসনের এই প্রশংসনীয় যুদ্ধ চলুক অবিরাম। রৌমারীর সর্বস্তরের মানুষ যদি প্রশাসনের এই জিরো টলারেন্স নীতির ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, তবে খুব শীঘ্রই আমাদের এই প্রিয় জনপদ সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত হবে—এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।