August 9, 2026, 6:15 am
শিরোনাম:
নওগাঁয় ঐতিহাসিক হিন্দুবাঘা ধামে দুই কোটি টাকা ব্যায়ে নতুন শিব মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন শ্রীরামপ্রসাদ ভদ্র রামপালে সংসারের খরচ যোগাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন এক অসহায় নারী পীরগাছায় এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ খুলনার ৪৬টি স্কুলের ৩ হাজার ২৬৯ জন কৃতী শিক্ষার্থী পেলেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের পুরস্কার রায়গঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মৃত্যু পীরগাছায় বাংলাদেশ বুলেটিনের ৯ম বর্ষপূর্তি উদযাপন ছাতনাই নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে এক মৎস্য জীবী জেলের মৃত্যু বড়াইগ্রামে ২৭২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুই মাদক কারবারি ধর্মসাগরের ভোরে সুরের জাগরণ: ব্যায়াম, প্রকৃতি আর বাংলার লোকসংগীতে মুখর প্রতিটি সকাল রামপালে স্কুল ছাত্রী ও তার বাবাকে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ

রামপালে সংসারের খরচ যোগাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন এক অসহায় নারী

রিপোর্টারের নাম

রামপালে সংসারের খরচ যোগাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন এক অসহায় নারী

 

মোঃ আকাশ উজ্জামান শেখ
রামপাল উপজেলা প্রতিনিধি
দারিদ্রের দুষ্টচক্রে সব হারিয়েছেন, শেষ আশ্রয় এখন রেললাইন। জমিন তাদের বসতভিটা আর আকাশ তাদের মাথার উপর ছাদ। দুইটি সন্তান নিয়ে নির্মম নিয়তির সাথে চলছে তার যুদ্ধ। শেষ মেষ মাথার চুল বিক্রি করে ঘর ভাড়া মিটিয়েছেন এক নারী।
বলছি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেললইনের কাছে খোলা আকাশের নিচে বাস করা রেহানা খাতুনের জীবনের দারিদ্রের সাথে যুদ্ধের এক নিদারুন গল্গ।
২ সন্তানকে নিয়ে তার জীবন যুদ্ধ আবারও প্রমান করেছেন মাতৃত্বের শক্তির কাছে পৃথিবীর সব দুঃখ যেনো নস্যি।
জানা গেছে, রেহানা থাকতেন একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে। কিন্তু ভাড়া দিতে না পারায় তার আশ্রয় এখন রেললাইন। রেলব্রিজের পাশে সরকারী জায়গাতে স্থানীয়দের সহায়তায় শুধু বাঁশ খুটি দিয়ে ঘরবাধার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যেখানে এক বেলারই খাবার জোটেনা সেখানে ঘর তো তাদের জীবনে দিবাস্বপ্ন। কয়েক মাস ধরে শুধু বাঁশ খুটির অস্তিত্ব থাকলেও মাথা গোঁজার ঠাই আর হয়ে ওঠেনি। রোদের প্রখর উত্তাপ আর বৃষ্টির কান্না আসে যায় কিন্তু হাসি আসে কি কখনও তাদের জীবনে?
ফেরদৌসী বেগম নামের এক নারী জানান, মাথা গোঁজার কোন ঠিকানা না থাকায় ছিলেন পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে । যার ভাড়া ৫০০ টাকা মেটাতে চুল বিক্রি করে দেয় রেহানা ।
ফেরদৌসী বলেন, আমি একদিন হঠাৎ দেখি রেহানার মাথায় চুল নেই । আমি বল্লাম কি ব্যাপার তোর চুল কি হইছে? তখন রেহানা কেঁদে দিয়ে বলে “ও বু কাউরে কইওনা, আমি ঘরের ভাড়া দিতি ৫০০ টাকায় চুল বেইচে দিছি” ।
এই অবস্থায় স্থানীয়দের মতে, রেহানাকে সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আবু তালেব শেখ নামের এক বয়োজ্যেষ্ঠ বলেন, রেহানার যে অবস্থা তাতে সে একটা ঘর পায়, সরকারের কাছে আবেদন করবো দ্রুত যেন একটা ঘর দেওয়া হয় ।
এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা মোংলা রেল লাইনের পাশের সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশ পথের মুখে ঘরের একটি বাঁশের ফ্রেম রয়েছে । যেখানে ঠিকানা করা যেতে পারে রেহানা এবং তার অবুঝ ২ সন্তানের জন্য বলে জানান ওই গ্রামের মহিদুল ইসলাম । তিনি বলেন, বাঁশের ফ্রেম যেহেতু আছে এখন টিন এবং বেড়ার খরচ যোগাতে পারলেই রেহানার একটা বন্দোবস্ত হবে । তাই এলাকার বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি ।
দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করেন রেহানা। রেল লাইনের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। তার স্বপ্ন খুব বড় নয়—মাথার ওপর একটি টিনের ছাউনি, যেখানে বৃষ্টি এলে সন্তানদের ভিজতে হবে না এবং রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাবে এই নিষ্পাপ দুটি মুখ। ছোট্ট ২ বাচ্চার মাথা গোঁজার একটু খানি জায়গা পেতে শেষ সম্বল মাথার চুল বিক্রয় করেন রেহানা, সাথে খিদের যন্ত্রণাতো রয়েছে।
রেহানা কান্না ভেজা কন্ঠে জানান, দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না, একদিকে ঘর নেই অন্যদিকে খিদের যন্ত্রণা। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেন । তাই তিনি সরকার ও বিত্তশালীদের কাছে সহায়তা চান ।
নারীর অহংকার শেষ সম্বল তার চুল বিক্রি করে দারিদ্রের কাছে হার মানলেও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা তাকে হারাতে পারেনি।
এখন প্রশ্ন একটাই— একজন মাকে আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে মিলবে মাথা গোঁজার একটুখানি ঠাই ?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST