জমি নিয়ে বিরোধে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, ২৮ দিনেও অধরা অধিকাংশ আসামি
ইয়াছিন আলী সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
দিনদুপুরে জনবহুল বাজারের সড়কে ঘিরে ধরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর ২৮ দিন পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকায় পোস্টারিং ও মানববন্ধনও করেছেন স্থানীয়রা। স্বজনদের প্রশ্ন, প্রকাশ্যে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরও কেন অধিকাংশ অভিযুক্ত এখনো আইনের আওতায় আসেনি?
গত ৩ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রূপসা বাজার এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত আমিনুল ইসলাম (৩৫) ওই এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় তাঁর মা মোছা. আম্বিয়া খাতুন ৪ অক্টোবর সিরাজগঞ্জ থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওয়ারিশি সম্পত্তি নিয়ে আমিনুলের পরিবারের সঙ্গে তাঁর স্বামীর বংশীয় চাচাতো ভাই ও ভাতিজাদের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে ঘটনার দিন দুপুরে রূপসা বাজার মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে নিজের চায়ের দোকানে ফিরছিলেন আমিনুল। পথে বাজারের উত্তর-পূর্ব পাশে আসান আলীর ওষুধের দোকানের পূর্ব পাশের কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করে। এ সময় তাদের হাতে ছুরি, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, টেটা, হাতুড়ি ও কাঠের বাটামসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ১ নম্বর আসামি আব্দুল হামিদ সরকারের নির্দেশে অন্যরা আমিনুলের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ইব্রাহিম হোসেন লিমন ও আসান আলী চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথার পেছনে একাধিক কোপ দেন। অন্যরা লোহার টেটা, রড, হাতুড়ি ও কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে আমিনুলের মাথা, হাত ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। কয়েকটি স্থানে হাড়ও ভেঙে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাঁকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে নৌকাযোগে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই নৌকার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আমিনুলকে হত্যা করা হয়েছে। এজাহারে আব্দুল হামিদ সরকার, ইব্রাহিম হোসেন লিমন, আসান আলী, ফারুক হোসেন, শাকিল হোসেন, সুলতান আলী, রাসেল, আবুল কালাম, ইউসুফ আলী, আব্দুর রহমান শাহিন ও সুমনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ২৮ দিন পার হলেও অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এলাকায় পোস্টারিং ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
নিহত আমিনুলের মা মোছা. আম্বিয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘যারা আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।’
স্থানীয়রা জানান, বাজারের মতো জনবহুল স্থানে প্রকাশ্যে আমিনুলের ওপর হামলার সময় কয়েকজন তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়। এমন নৃশংস ঘটনা ঘটবে, তা তাঁরা কল্পনাও করেননি। তাঁদের দাবি, দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রথম পাঁচজন আসামি জামিনে রয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।