আলী আকবর সুমনের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাঙ্গামাটিতে বিএনপি পরিবারের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
সর্বজিৎ চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:
অবৈধ ও মিথ্যা মামলায় রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমনের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাঙ্গামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাঙ্গামাটি বিএনপি পরিবার।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরুপা মসজিদ মার্কেটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক বাচ্চু মিয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে সঞ্চালনা করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সাকু।
সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বাশার আজম। এছাড়া বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আবদুল সাকুর জাবেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি খায়রুল ইসলাম এবং জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন।
বক্তারা আলী আকবর সুমনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, কী কারণে আলী আকবর সুমনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, গতকাল সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে জেলা পরিষদের সামনে থেকে সাদা পোশাকে আলী আকবর সুমনকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তারা জানতে পেরেছেন। একই সময় সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকেও নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন তুলে তারা বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা। তারা আলী আকবর সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারা আলী আকবর সুমনের গ্রেপ্তারের কারণ ও মামলার বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা তাঁতিদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শাকিল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল মজিদ নান্টু, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তহীদুল আলম মামুন, জেলা তাঁতিদলের যুগ্ম সম্পাদক বাদশা আলম এবং ২৯৯ নম্বর সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের ব্যক্তিগত সচিব মো. আল আমীনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তবে আলী আকবর সুমন ও সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।