July 10, 2026, 6:41 pm
শিরোনাম:
ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে নিঃস্ব ১৬০ পরিবার: ‘ত্রাণ চাই না, বাঁচতে স্থায়ী বাঁধ চাই’ ৮ হাজার গাছ কোথায় গেল ??? নেত্রকোনা জেলা সাব-রেজিস্টার অফিসে পিয়ন সেলিমের অবৈদ টাকা লেনদেন ভিডিও ভাইরাল নওগাঁ পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবির বিশেষ অভিযানে ১০ মামলার আসামি ভুয়া ডিবি ‘সুমন’ গ্রেফতার আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সঙ্গে মধ্যরাতের উচ্ছ্বাস আনন্দ ভাগ করে নিলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতিতে নবাগত আইনজীবীদের উষ্ণ সংবর্ধনা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণের আহ্বান নাসিরনগরে সরকারি সিনিয়র নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার. পাবনা ফরিদপুরে ১০ লাখ টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুরিয়ে ধ্বংস এ-আই প্রযুক্তিতে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার, চাঁদা দাবির অভিযোগ একটি ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে নবাগত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজকে উষ্ণ সংবর্ধনায় বরণ করলো কুমিল্লা আইনজীবী সমিতি

৮ হাজার গাছ কোথায় গেল ???

রিপোর্টারের নাম

৮ হাজার গাছ কোথায় গেল ???

মো: গোলাম কিবরিয়া
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) ক্যাম্পাস এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৮ হাজার গাছ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কাগজে-কলমে গাছ থাকলেও বাস্তবে তা নেই। রামেবির একটি প্রভাবশালী চক্র গাছগুলো হজম করে ফেলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি জানতে পেরেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও। মঙ্গলবার সকালে তিনি বিষয়টি নিয়ে রামেবির উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে সকালেই ক্যাম্পাস এলাকা পরিদর্শন করেছেন ভিসি।

দুপুরের মধ্যেই তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিক্রি করা গাছের হিসেব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনদফায় তিনি ২ হাজার ৬৪২টি গাছ নিলামের মাধ্যমে ২৬ লাখ ১২ হাজার ৫৭০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এসব গাছ কাটা হয়েছে। আর কোনো গাছ কাটা হয়নি বলে তিনি মন্ত্রীর কাছে দাবি করেছেন।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আরও অনেক গাছ টেন্ডারের বাইরেই লুট হয়েছে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে।

নথিতে আছে ২৫ হাজার ৮৪২ টা গাছ।
নগরের সিলিন্দা এলাকায় এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ৬৭ দশমিক ৬৭৯২ একর জমি অধিগ্রহণ করে জেলা প্রশাসন। ২০২৩ সালের ১ জুন তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শরিফুল হক ক্ষতিপূরণের প্রাক্কলন প্রস্তুতের বিবরণ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে একটি চিঠি দেন। এই চিঠিতে গাছের মোট সংখ্যা বলা হয় ২৫ হাজার ৮৪২টি।

ক্যাম্পাসে কত গাছ ছিল, কত বিক্রি করা হয়েছে এবং এখন কত গাছ আছে তা তিনি জানতে চান। ভিসি তখন জানান, তিনি ২ হাজার ৬৪২ গাছ বিক্রি করেছেন। কিন্তু কত গাছ ছিল আর এখন কত আছে তা তিনি জানেন না। এতে বিরক্তি প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

তখন নথিপত্রে বের করে দেখা যায়, মোট গাছ ছিল ২৫ হাজার ৮৪২টি। মন্ত্রীর ফোনকলের পর সকালেই ক্যাম্পাস এলাকা পরিদর্শনে যান ভিসি ও প্রকল্প পরিচালক ডা. জাওয়াদুল হক।

বিষয়টি স্বীকার করে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের ফোন পেয়ে আমি নিজেই প্রকল্প এলাকায় গিয়েছিলাম। আমার কাছেও মনে হচ্ছে এক হাজারের মতো গাছ আছে। বাকি গাছ কোথায় গেল সেটা আমিও বুঝতে পারছি না।’

নিলামে গাছ কেনা তিনটি প্রতিষ্ঠান কেনার অতিরিক্ত গাছ কেটেছে কি না জানতে চাইলে ভিসি অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, ‘না, আমার সেটা মনে হয় না। এখন যে গাছ আছে তা হয়ত হাজার খানেক হবে। প্রকৃত সংখ্যা জানতে আমি উপসহকারী প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি গুণে এসে আমাকে জানাবেন। আমিও মন্ত্রী মহোদয়কে এ কথা জানিয়েছি।’

প্রায় ৮ হাজার গাছ তাহলে কোথায় গেল, এমন প্রশ্নে ভিসি বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের সময় লোকজন অতিরিক্ত গাছের সংখ্যা বলেন মূল্য বেশি পেতে। এইক্ষেত্রেও এমনটি হতে পারে।

উল্লেখ্য, শুরু থেকেই রামেবি স্থাপন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। এ কারণে এখনও পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ কাজই শুরু হয়নি। এ পর্যন্ত শুধু প্রধান ফটক দৃশ্যমান হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST