জিল্লুর রহমানের ওপর হামলা: আসামিরা পলাতক, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা
রিপোর্টারঃ শামীম আহমেদ, পাবনা।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জিল্লুর রহমান মাস্টারের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিরা এখনও প্রকাশ্যে গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ এর ছেলে আব্দুর রহমান পলাতক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে চলে যায়। নিজেদের বাড়ির গৃহপালিত গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন সম্পদ বিক্রি করে তারা গোপনে অবস্থান করছে। এছাড়াও নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তারা দেশত্যাগের চেষ্টা করছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ঘটনার পর থেকে আসামিদের বাড়িতে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। অভিযুক্ত আব্দুর রহমানের বাড়ি পাহারার জন্য তার শ্বশুর-শাশুড়িকে এনে রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে আব্দুর রহমানের স্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “জিল্লুর রহমান তো আর মারা যায় নাই, তাই কী হয়েছে।” এমন বক্তব্যে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, জিল্লুর রহমান মাস্টারের উপর যে নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, তা ছিল পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা বলেন, একটি প্রভাবশালী মহল আসামিদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। ফলে ঘটনার পর এতদিন পার হলেও মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের আইনের আওতায় আনা না গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।
এলাকাবাসী জানান, খানমরিচ ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তারা আরও বলেন, “আমরা চাই না ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এভাবে হামলার শিকার হোক। অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ।
জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—
ভাংগুড়ায় সাবেক জামায়াত নেতা জিল্লুর রহমানের উপর হামলার আসামিরা আর কতদিন আত্মগোপনে থাকবে?