October 18, 2026, 3:27 am
শিরোনাম:
যুবসমাজ লড়বে, দেশটাকে গড়বে ফরিদপুরে শিক্ষার্থী ও যুবকদের মাঝে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ দূর্গাপুরে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে নেত্রকোনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত কুমিল্লায় উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও বোধন, ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন ফরিদপুরে চাপাতি,ও বিপুল পরিমান মাদক সহ ৫ জন গ্রেফতার জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসার চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে কালিয়াকৈরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট বিতরণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোটের নিন্দা ১০টি উপজেলায় কমিটি গঠন সম্পন্ন, কথা রাখল এনসিপি রাঙ্গামাটি জেলা শাখা সিরাজগঞ্জে শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা উদযাপনের আশ্বাস দিলেন মন্ত্রী টুকু কুমিল্লায় উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি

রৌমারীতে ঝরল তাজা প্রাণ: নিরাপদ সড়কের দাবি কি কেবলই অরণ্যে রোদন?

রিপোর্টারের নাম

রৌমারীতে ঝরল তাজা প্রাণ: নিরাপদ সড়কের দাবি কি কেবলই অরণ্যে রোদন?

কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আবারও ঝরল একটি নিষ্পাপ প্রাণ। এবার ঘাতক বেপরোয়া গতির ইজিবাইক ‘বোরাক’। গুচ্ছগ্রাম এলাকায় চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে চিরতরে হারিয়ে গেল প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছাঃ জান্নাত (০৯)। এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ নয়, বরং আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার দৈন্যদশার এক করুণ প্রতিচ্ছবি। জানা গেছে, ডিগ্রীর চর গ্রামের মো. বাবলু মিয়ার চালিত একটি দ্রুতগামী ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিশু জান্নাতকে চাপা দেয়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রৌমারী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জান্নাত ওই এলাকার চর বামনের চর গুচ্ছগ্রামের মো. জাইদুল ইসলাম ও মোছাঃ আজেমা খাতুন দম্পতির আদরের কন্যা। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তবে শোকের পাশাপাশি স্থানীয়দের মাঝে বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ। উত্তেজিত জনতা ঘাতক চালক বাবলুকে বর্তমানে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে। কেন থামছে না এই মৃত্যুমিছিল? গ্রাম্য রাস্তাগুলোতে ইদানীং বেপরোয়া গতির যানচলাচল মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ইজিবাইক বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘বোরাক’ চালকদের অনেকেরই নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ বা ট্রাফিক আইন সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা। সামান্য অসতর্কতা আর গতির নেশায় কেড়ে নেওয়া হচ্ছে শিশুদের প্রাণ। আজ জান্নাত হারিয়েছে তার পরিবারকে, কাল হয়তো অন্য কেউ। প্রশ্ন জাগে, আমাদের জনপদে শিশুদের জন্য কি কোনো নিরাপদ স্থান অবশিষ্ট নেই? প্রশাসনের ভূমিকা ও জনদাবি রৌমারী প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এলাকাবাসীর দাবি কেবল আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপের। সচেতন মহলের দাবিগুলো স্পষ্ট: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: ঘাতক চালকের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন বেপরোয়া হওয়ার সাহস না পায়। গতি নিয়ন্ত্রণ: গ্রাম্য ও সংযোগ সড়কগুলোতে গতিরোধক স্থাপন এবং বেপরোয়া যান চলাচলের ওপর প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
ক্ষতিপূরণ: শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে যথাযথ আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। “রাস্তায় কি শিশুদের কোনো নিরাপত্তা নেই? একের পর এক প্রাণ যাচ্ছে, কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের লাগাম টানা যাচ্ছে না। আমরা আর কত প্রাণ বিসর্জন দেব?” — ক্ষুব্ধ এক এলাকাবাসী। একটি মৃত্যুর পর প্রশাসনের নড়েচড়ে বসা এবং কয়েকদিন পর সব ভুলে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। জান্নাতের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি আমরা চাই নিরাপদ সড়ক। প্রশাসনের সদিচ্ছা আর চালকদের সচেতনতাই পারে এমন অকাল মৃত্যু রুখতে। জান্নাত যেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে শেষ বলি হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
Developed by: BD IT HOST