বিজয়নগরে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগে বিল্লাল মেম্বারের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা।
সাংবাদিককে হেনস্তা, মানহানিকর প্রচার ও ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি।
শফিকুর রহমান শাহীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর বক্তব্য ও ভিডিও প্রচার করে সাংবাদিককে হেনস্তা এবং সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগে বিল্লাল মেম্বারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক আলমগীর হোসেন। গত ১৩ অক্টোবর দায়ের করা মামলার নং ৫৬৩/২০২৬।
অভিযুক্ত বিল্লাল মেম্বার উপজেলার সাতগাঁও গুচ্ছগ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে। অভিযোগকারী আলমগীর হোসেন জাতীয় দৈনিক ভোরের দর্পণের বিজয়নগর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন ধর্ষণচেষ্টা মামলায় এক ব্যক্তির গ্রেপ্তারের সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক আলমগীর হোসেন। তাঁর অভিযোগ, ওই সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য ও আপত্তিকর প্রচারণা চালানো হয়।
আলমগীর হোসেনের দাবি, বিল্লাল মেম্বারের প্ররোচনায় আয়োজিত একটি মানববন্ধনে তাঁর নাম উল্লেখ করে স্লোগান দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর কর্মস্থলে হামলার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক আলমগীর হোসেন আরও অভিযোগ করেন, ধর্ষণচেষ্টা মামলার ভুক্তভোগীর শাশুড়িকে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাঁর নাম বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে ওই ঘটনার ভিডিও সম্পাদনা করে বক্তব্যের অংশবিশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়।
তিনি জানান, ঘটনার মূল ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় চার মাস ধরে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষে গত ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযোগকারীর দাবি, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে একটি কম্পিউটারের দোকানে বিল্লাল মেম্বার তাঁর কাছে ক্ষমা চান এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তবে এ দাবির বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া অর্থ লেনদেন এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা পরিবর্তনসংক্রান্ত কাজে হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন আলমগীর হোসেন। তাঁর দাবি, এলাকায় বিভিন্ন গ্রুপিং ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনেও অভিযুক্তের ভূমিকা রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারী পক্ষ আরও দাবি করেছে, বিল্লাল মেম্বারের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, সম্পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
সাংবাদিক আলমগীর হোসেন বলেন, “বিল্লালের গোপনে উসকে দেওয়ার ভিডিও আমার কাছে রয়েছে। সেটাই যথেষ্ট।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বিল্লাল মেম্বার বলেন, মামলা হয়েছে শুনেছি কিন্তু এখনো আমি কিছু জানি না, তদন্তে আসুক তারপর দেখা যাবে, এ বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই।
এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ আমার কাছে এলে সমাধান করে দেব।”
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী সাংবাদিক।
শফিকুর রহমান শাহীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া।01717490756