অষ্টগ্রামে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
কিশোরগন্জ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে প্রতিটি পূজা মন্ডপ থেকে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীরে রয়েছেন অষ্টগ্রাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক দেবেশ চন্দ্র দাস (৫৮)।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক অষ্টগ্রাম উপজেলার ৪৫টি পূজা মন্ডপের অনুকূলে মন্ডপপ্রতি ৬০০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। চাল বিতরণের পর বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত সভা কক্ষে দেবেশ চন্দ্র দাস এবং তার সহযোগীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিটি পূজা মন্ডপ থেকে ১,০০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপস্থিত অনেকে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানালেও অভিযুক্ত দেবেশ চন্দ্র দাস এবং তার সঙ্গীরা তা উপেক্ষা করে টাকা আদায় করে নিয়ে যান।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে হালালপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক শ্রীকৃষ্ণ দাস (৪০) (পিতা: ঠাকুর ধন দাস) বাদী হয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্রে দেবেশ চন্দ্র দাসসহ ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী শ্রীকৃষ্ণ দাস ও অষ্টগ্রাম সার্বজনীন যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দেবনাথ জানান, “সরকারি অনুদানের চাল পাওয়ার পর প্রতিটি মন্ডপ থেকে অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক এই টাকা নেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করলেও তারা কোনো তোয়াক্কা করেনি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
তবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক দেবেশ চন্দ্র দাস এ প্রতিনিধিকে জানান, “পূজা উদযাপন পরিষদের নিজস্ব কোনো ফান্ড নেই এবং আগের অনুষ্ঠানের কিছু ঋণও রয়েছে। গত সোমবার চাল বিতরণের পর সব ৪৫টি পূজা মন্ডপের প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই সংগঠনের ফান্ডের জন্য এই টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি কোনো জোরপূর্বক চাঁদা নয়; প্রতি বছরই সর্বসম্মতিক্রমে মন্ডপগুলো থেকে এভাবে ফান্ডের জন্য অনুদান নেওয়া হয়ে থাকে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি, অভিযুক্ত দেবেশ চন্দ্র দাসসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুকনুজ্জামান এ প্রতিনিধিকে জানান, “এ বিষয়ে একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”