পুনরায় অনৈতিক পরকিয়া কর্মকাণ্ডে এলাকায় আটক আনছার ফকিরের ছেলে হাবিবুর
এলাকায় চাঞ্চল্য, বিচার দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের
স্টাফ রিপোর্টার | শামীম আহমেদ, পাবনা
পাবনার ভাংগুড়া উপজেলার বৃদ্ধমরিচ পাইকপাড়া এলাকায় আবারও অনৈতিক পরকিয়া কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আটক হয়েছেন আনছার ফকিরের ছেলে মোঃ হাবিবুর। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলাকাবাসী হাবিবুরকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেয়ের পরিবারের সদস্যরাও। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী হিসেবে হেলেন্চা পশ্চিমপাড়া এলাকার মোঃ নূর ইসলামের মেয়ে মোছাঃ আদরী অভিযোগ করে বলেন, হাবিবুর দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখে। একাধিকবার তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে বর্তমানে পরিবারের চাপে হাবিবুর বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আদরী।
তিনি আরও বলেন,
“হাবিবুর আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্ক রাখে। একাধিকবার আমার সাথে মেলামেশা করেছে। কিন্তু এখন পরিবারের চাপে বিয়ে করতে অস্বীকার করছে। আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় টাকা নিয়েছে, ফেরত দেয়ার কথাও বলেছিল। বর্তমানে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। পরিবারের সম্মান নষ্ট হয়েছে। আমি সঠিক বিচার চাই।”
এদিকে মেয়ের মা অভিযোগ করে বলেন, পূর্বে বিয়ে ও ডিভোর্সের পরও হাবিবুর তার মেয়ের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে এবং নিয়মিত যোগাযোগ করতো। এখন ছেলের পরিবারের চাপে বিষয়টি অস্বীকার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন,
“ইতিপূর্বে বিয়ে করে ডিভোর্স দেয়ার পরেও হাবিবুর আমার মেয়ের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে। তারা নিয়মিত যোগাযোগ ও মেলামেশা করতো। এখন ছেলের পরিবারের চাপে বিয়ে করতে অস্বীকার করছে। আমরা মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তিত। সমাজে আমাদের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, হাবিবুরের চলাফেরা ও আচরণ নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই নানা অভিযোগ ছিল। তিনি বলেন,
“এই ছেলে বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যাতায়াত করতো। তার আচরণ ও ভাবমূর্তি ভালো ছিল না। ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় রাতে তাকে ঘরের ভিতরে আটক রাখা হয়। এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।”
ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এ ঘটনায় আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এ ধরনের ঘটনা সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।