বান্দরবানে জেলা পরিষদের শিক্ষা বৃত্তি বিতরণ শুরু।।
মো: সুমন, বান্দরবান প্রতিনিধি।।
মেধাবী ২,৭৭৯ শিক্ষার্থীর মাঝে পর্যায়ক্রমে বৃত্তি প্রদান
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে মেধা ও উচ্চশিক্ষার প্রসারে শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘শিক্ষা বৃত্তি-২০২৬’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মোট ২ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থীর মাঝে এই বৃত্তি পর্যায়ক্রমে প্রদান করা হবে। এর ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে ২৩০ জন শিক্ষার্থীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
সোমবার (৪ মে) সকালে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং সঠিক পদায়ন অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ও মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিত করা গেলে বান্দরবান জেলার শিক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত পর্যায়ে পৌঁছাবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তোমরাই এই বান্দরবানকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে এবং দেশের বুকে জেলার মুখ উজ্জ্বল করবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, “বান্দরবানের যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোতে যেন সঠিকভাবে ও মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করা হয়—সে বিষয়ে সবাইকে আরও যত্নবান হতে হবে।
আরও বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বান্দরবান পার্বত্য জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “এই অর্থ যেন শুধুমাত্র পড়াশোনার কাজে ব্যবহার হয় এবং ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক হয়। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে বান্দরবানকে একটি উন্নত জেলায় রূপান্তর করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একযোগে বলেন, কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ বা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের খরচ নিজে বহন করার চেষ্টা করলে পরিবারের ওপর চাপ কমবে এবং অভিভাবকরাও স্বস্তি পাবেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত ২৩০ জন শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির চেক ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে বাকি শিক্ষার্থীদের মাঝেও বৃত্তি বিতরণ সম্পন্ন করা হবে বলে জেলা পরিষদ সূত্রে জানানো হয়েছে।